rockland bd

২০৪১ সালের মধ্যে ৩৬,৮৭০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

0

ঢাকা, ডেস্ক প্রতিবেদন-


সরকার ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দেশব্যাপী ৩৬ হাজার ৮৭০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত মোট লাইনের মধ্যে ১৩২ কেভির লাইন হবে ১৬ হাজার ৬৫৫ কিলোমিটার, ২৩০ কেভির লাইন হবে নয় হাজার ৭১৭ কিলোমিটার, ৪০০ কেভির লাইন হবে এক হাজার ৭৪০ কিলোমিটার এবং ৭৬৫ কেভির লাইন হবে ৭৯৬ কিলোমিটার।

পাওয়ার সেলের পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে দেশ জুড়ে সঞ্চালন লাইন আছে মোট ১১ হাজার ১২৩ কিলোমিটার। তার মধ্যে ১৩২ কেভির লাইন সাত হাজার ৮২ কিলোমিটার, ২৩০ কেভির লাইন তিন হাজার ৩৪৩ কিলোমিটার এবং ৪০০ কেভির লাইন ৬৯৮ কিলোমিটার। দেশের কোথাও ৭৬৫ কেভির লাইন নেই। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতার পর সরকার এখন সঞ্চালন খাত উন্নয়নে অতিরিক্ত নজর দিচ্ছে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রতি ২০ হাজার মেগাওয়াটের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। আর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়। কিন্তু সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে এখনো দেশের অনেক এলাকায়, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায়ই বিঘ্নিত হচ্ছে।

সরকারি তহবিলের সংকটকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। সঞ্চালনের দুর্বলতা এবং তহবিল ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি এই খাতে বিনিয়োগ করতে বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের জন্য আট হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে, যার বেশির ভাগই দরকার পড়বে সঞ্চালন খাতের জন্য।

‘বিদ্যুৎ খাতে দেশ এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। যার মধ্যে বেশির ভাগই বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালার আওতায় দেশীয় এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) থেকে এসেছে,’ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার এখন সঞ্চালন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ চায়।

পাওয়ার সেলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে আট হাজার ৮৪৫ মেগাওয়াট সক্ষমতা সরকারি খাতে এবং ছয় হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট সক্ষমতা বেসরকারি খাতে উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই সাথে ভারত থেকে আমদানি ছিল ৬৬০ মেগাওয়াট, যা এখন বেড়ে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বাকি দুই হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ শিল্প খাতে ক্যাপটিভ অপারেটর এবং ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট মানে উন্নীত করা না পর্যন্ত দেশে নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সিনিয়র সহসভাপতি মনোয়ার মঈন বলেন, দেশে স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে সৌরশক্তি সেই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে। সূত্র: ইউএনবি

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.