rockland bd

বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউনে সরকার : বিএনপি

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: বিরোধীদল বিএনপি অভিযোগ করেছে, হেফাজতের কর্মসূচিতে সহিংসতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার এখন বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমনে ক্র্যাকডাউনে নেমেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এপর্যন্ত বিএনপির ১৭৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে সরকার বলছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা বা সহিংসতার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় গত ২৬শে মার্চ থেকে তিন দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়।
হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারী এবং ঢাকায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কয়েকদিন ধরে পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশের এই অভিযানকে বিরোধী দলগুলোর ওপর ক্র্যাকডাউন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুলিশ যে ধরপাকড় চালাচ্ছে, তাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মিরাই বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি তাদের দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
“আমরা বরাবরই বলে আসছি যে ২৬শে মার্চের ঘটনার সাথে বিএনপির কোন সম্পর্ক নাই। আমরা প্রতিবাদ করেছি, ২৬ তারিখে এবং তারপরে যে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে ঘটনার। এবং সেটা আমরা মনে করি যে, অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবেই আমরা করেছি। এখন এটাকে কেন্দ্র করে এই লকডাউনের মধ্যেই তারা (সরকার) আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে” বলেন মি: আলমগীর।
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যেই আমাদের ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপি মিলে ১৭৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে খুলনায় পুলিশের নির্যাতনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে একটা ক্র্যাকডাউনের মতো তারা (সরকার) চালাচ্ছে এখন লকডাউন হাতে নিয়ে। কারণ লকডাউনে মানুষ বের হতে পারছে না এবং যোগাযোগ হচ্ছে না ঠিকমত। এই সুযোগ নিয়ে তারা (সরকার) এটা করছে।”
মি: আলমগীর খুলনায় পুলিশের নির্যাতনে তাদের একজন কর্মীর মৃত্যুর যে অভিযোগ করেছেন। তা অস্বীকার করেছে সেখানকার পুলিশ। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গত ২৯শে মার্চ খুলনা শহরে বিএনপির এক সমাবেশ করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জে দলটির ঐ কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে তার মৃত্য হয়।
এদিকে, হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি বিভিন্ন অফিসে অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতা বেশি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
ইতিমধ্যেই হেফাজতে ইসলাম বলেছে, হেফাজতের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের প্রায় দু”শ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায় থেকে।
এখন বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, হেফাজতের ইস্যুকে কেন্দ্র করে মূলত বিএনপি এবং বিরোধী দল দমনের টার্গেট করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.