rockland bd

হেফাজত কর্মীদের নতুন-পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার চলছে, চলবে

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: হেফাজতের নেতা-কর্মীদের নতুন পুরনো সব মামলায়ই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বৃহস্পতিবার আরো অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হেফাজতের প্রচার শাখার দাবি অনুযায়ী গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ সারাদেশে ১৫০ জনের মত আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন। ইসলামবাদীকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আটক করা হয়েছে। বাকিদের নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের ঘটনায় সাম্প্রতিক হামলা, আগুন ও তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ধরনের কার্যক্রম চলবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,” আরে হবে হবে, অপেক্ষা করেন। খোঁজ রাখেন। দেখেন কি হয়।” তবে এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ও ঢাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় এপর্যন্ত ৮২টি মামলা হয়েছে। এইসব মামলায় হেফাজতের শীর্ষ নেতারাও আসামি। হেফাজতের প্রয়াত আমির মাওলানা শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা বলে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। চার্জশিট অনুসারে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুরগরীসহ শীর্ষ নেতারা আসামি। আর ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরের ঘটনায় মোট মামলা হয় ৮৩টি। শাপলা চত্বরের ঘটনায় বাবুনগরী তখন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করা ৫১ মামলায় আসামি ৩৮ হাজারের বেশি । নতুন পুরনো মিলিয়ে সব মামলায় আসামি এক লাখের বেশি। এই সব মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।
হেফাজতের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন,” আমাদের নেতা-কর্মীদের সহায়তা দেয়ার জন্য সারাদেশে আইনি সহায়তা সেল করা হয়েছে। মামলাগুলো আমরা আপাতত আইনগতভাবেই মোকাবেলার চেষ্টা করছি।”
তার দাবি,” একটি নাস্তিক্যবাদী গ্রুপ সরকারকে ভুল বুঝিয়ে হেফাজতের ওপর দমন পীড়ন শুরু করেছে। দেশে সাম্প্রতিক তাণ্ডব ও নাশকতার সাথে হেফাজতের কেউ জড়িত নন। অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে।”
হেফাজত আগামী ২৫ এপ্রিল হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওলামা- মাশায়েখদের নিয়ে সম্মেলন করবে। তারা এজন্য সরকারের কোনো অনুমতি নেবে না। নোমান ফয়েজী বলেন,” মাদ্রাসায় অনুষ্ঠান করতে অনুমতি লাগে না।”
হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মাওলানা মনির হোসেন কাসেমী বলেন,” রমজান মাস, মাদ্রাসাগুলো বন্ধ, তার ওপর লকডাউন দিয়ে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সবার মত আমরাও তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।
” রাষ্ট্র শক্তিকে ব্যবহার করলে জনগণ কিছু করতে পারেনা। তবে শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল ভালো হয় না।”
এদিকে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন,” সন্ত্রাস এবং বেআইনি কাজের সাথে জড়িত সবাইকে যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অভিযান চলতে থাকবে।”
খবর ডয়েচে ভেলের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.