rockland bd

আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

0

বিদেশ ডেস্ক, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: যুকব্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ১১ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তার দেশের সৈন্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তালেবানের চুক্তি হয়েছিল যে মে মাসের মধ্যে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
এখন নতুন যে সময়সীমার কথা বলা হচ্ছে তার ঠিক ২০ বছর আগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এবং পেন্টাগনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল।
এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন ১লা মে তারিখের মধ্যে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার কাজ কঠিন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নেটোর নেতৃত্বে প্রায় ১০ হাজার বিদেশি সৈন্য অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা আড়াই হাজার। গত দুই দশকের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে দুই হাজারের মতো মার্কিন সৈন্য।
যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটোর কর্মকর্তারা বলছেন, সহিংসতা কমানোর ব্যাপারে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেটা তারা পূরণ করতে পারেনি।
এই খবরটি জানাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, তালেবানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে সৈন্য প্রত্যাহারের এই সময়কালে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হলে “শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে সৈন্য প্রত্যাহার করা হলে সেটা একটা ঝুঁকি তৈরি করবে বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি বলেছেন, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে চলা “সংঘাতের এই অধ্যায়টি এখনই বন্ধ করে দেওয়ার সময়।”
কিন্তু অনেকেই যেমন বলছেন যে সৈন্য প্রত্যাহারের পর দেশটি শান্তির পথে অগ্রসর হতে পারে, তেমনি অনেকে আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে আফগানিস্তান আবারও সহিংসতায় নিপতিত হতে পারে।
কাবুলে ইন্সটিটিউট অফ ওয়ার এন্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী সভাপতি তামিম আসে সতর্ক করে দিয়েছেন, “আশা করা যেতে পারে সৈন্য প্রত্যাহারের এই সময়সীমা ঘোষণার ফলে একটা রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আফগান দলগুলোর ওপর চাপ তৈরি হবে অথবা সিরিয়ার মতো রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারে।”
আফগানিস্তানে বিবিসির সংবাদদাতা সেকান্দার কেরমানি বলছেন, সেখানে অনেকেই মনে করেন যে এই সিদ্ধান্ত তালেবানকে চাঙ্গা করবে, যদিও এটি তালেবানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার লঙ্ঘন।
তিনি বলছেন, তারা যে মার্কিন সৈন্যদের ওপর এই অল্প সময়ের মধ্যে হামলা শুরু করবে সেই সম্ভাবনা কম। তার পরেও তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সিদ্ধান্তকে ভালভাবে গ্রহণ করেনি।
“তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন তালেবান হয়তো সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং তার পরেই তারা বিজয় অর্জন কিম্বা অন্তত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাবে।”
সেকান্দার কেরমানি বলেন, তালেবানকে প্রতিহত করতে আফগান সরকার এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ওপর নির্ভরশীল।
এই আশঙ্কাও আছে যে কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার করা হলে তালেবান ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে।
আফগানিস্তান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধে তারা হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে। গত ২০ বছরের এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজারেরও বেশি সৈন্য ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.