rockland bd

শততম ওয়ানডে জয় বাংলাদেশের, সাথে এল সিরিজও

0

বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :
ব্যবধানটা আসলে এমনই হওয়ার কথা ছিলো। ১৪১ রানের জয় বলেই আলাদা একটা গুরুত্ব হয়তো আছে। তারপরও এমন না হলেও এর কাছাকাছি ব্যবধানে আফগানিস্তানের সাথে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য থাকাটাই এখন বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশা। এজন্যই হয় তো গত ম্যাচের ফলটিকে দুর্ঘটনা প্রমাণ করে নিজেদের শততম জয়টা বড় ব্যবধানে তুলে নিয়ে বাংলাদেশ। সত্যিই এখন বড় দল! বাংলাদেশের তোলা ৬ উইকেটে ২৭৯ রানের জবাবে আফগানিস্তানকে অলআউট ১৩৮ রানে। রানে দিক থেকে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম জয়।
ম্যাচের আসল নায়ক তামিম ইকবাল, ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ১৪০ রানের জুটি গড়তে সাব্বির রহমানও (৬৫) সহযোগিতা করেছেন। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ২২ বলে ৩২ তোলায় চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে টাইগাররা । পরে বোলিংয়ে বাংলাদেশের সবাই ভালো প্রদর্শন করল। ৮ বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোশাররফ ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম। তাসকিনের জোড়া উইকেট। মোসাদ্দেক, শফিউল, মাশরাফির একটি করে।
আফগানিস্তান ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটিতেই পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগের বলেই দুর্দান্ত সুইং ডেলিভারিতে মোহাম্মদ শেহজাদকে বোল্ড করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। এই প্রথম কোনো ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে অলআউট হয়নি বাংলাদেশ। জবাবে ৩৩ ওভার ৫ বলে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।
এর আগে দুই অঙ্কে গিয়েই বিদায় নেন রানে ফেরার লড়াইয়ে থাকা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। মিরওয়াইস আশরাফের অনেক বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হন তিনি।

১ রানে জীবন পাওয়া তামিমের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ এক জুটিতে বাংলাদেশকে দৃঢ় ভিত গড়ে দেন সাব্বির। ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি খেলেন দারুণ এক ইনিংস।
চাপ সরিয়ে নিতে শুরুতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলা সাব্বির উপহার দিয়েছেন তিনটি ছক্কা। রানের গতি বাড়ানোর কাজটা করেছেন তিনিই। স্কয়ার লেগ দিয়ে জাদরানকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু। এরপর দুই লেগ স্পিনার শেনওয়ারি ও রহমতকে লংঅন দিয়ে উড়িয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়েছেন
নবিকে সুইপ করে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাব্বির। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি। লেগ স্পিনার রহমতকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়ার চেষ্টায় শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন।
৭৯ বলে ৬টি চার আর তিনটি ছক্কায় ৬৫ রান করে সাব্বিরের বিদায়ে ভাঙে ২৪.৪ ওভার স্থায়ী ১৪০ রানের জুটি। সিরিজে এটাই স্বাগতিকদের একমাত্র শতরানের জুটি।
বাংলাদেশের বাঁচা-মরার ম্যাচে তামিম খেলেছেন ১১৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সপ্তম শতকে ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসানকে (৬) পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শতক এখন এককভাবে তারই।
১১০ বলে শতকে পৌঁছে তামিম চড়াও হন আফগান বোলারদের ওপর। রহমতের দুই বলে মিডউইকেট ও এক্সট্রা কাভার দিয়ে হাঁকান দুটি ছক্কা। ১১৮ বলে খেলা তামিমের ১১৮ রানের ইনিংস শেষ হয় নবিকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে। তামিমের ইনিংসটি গড়া ১১টি চার ও দুটি ছক্কায়।
এক সময়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ২১২ রান। সেখান থেকে ২৩ রানে তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মোসাদ্দেককে হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। অতিথি বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেপে ধরে স্বাগতিকদের।
বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব ফিরেন বাজে এক শটে। গুগলি ভেবে খেলতে গিয়ে রশিদের লেগ স্পিনে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। অভিষেকে আলো ছড়ানো মোসাদ্দেক স্টাম্পড হন রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে।
৮ বছর ২০০ দিন পরে ওয়ানডে খেলতে নেমে ব্যাটিংয়ে মোটেও ভালো করতে পারেননি মোশাররফ। ৪ রান করতে ১৪ বল খেলেন তিনি। দ্রুত ফিরেন অধিনায়ক মাশরাফিও।
শেষের দিকের দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে সিরিজের সর্বোচ্চ রান এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। ২২ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
আফগানিস্তানের রশিদ, নবি ও আশরাফ দুটি করে উইকেট নেন।

স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৯/৮ (তামিম ১১৮, সৌম্য ১১, সাব্বির ৬৫, সাকিব ১৭, মুশফিক ১২, মাহমুদউল্লাহ ৩২*, মোসাদ্দেক ৪, মোশাররফ ৪, মাশরাফি ২, শফিউল ২*; নবী ২/৪১, দওলত ১/৫৮, মিরওয়াইস ২/৪৩, রশিদ ২/৩৯, রহমত ১/৫৯)
আফগানিস্তান: ৩৩.৫ ওভারে ১৩৮/১০ (মঙ্গল ৩৩, রহমত ৩৬, নজিবউল্লাহ ২৬, সামিউল্লাহ ১৩, রশিদ ১৭; মাশরাফি ১/১৫, শফিউল ১/২৮, সাকিব ০/৩৪, মোশাররফ ৩/২৪, তাসকিন ২/৩১, মোসাদ্দেক ১/৫)
ফল: বাংলাদেশ ১৪১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল

Comments are closed.