rockland bd

রক্তাক্ত ভোট, কোচবিহারে গুলিতে মৃত ৪

0

বিদেশ ডেস্ক, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ পর্বের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন প্রাণ হারালেন। দলীয় সংঘর্ষে মারা গেছেন একজন। কোচবিহারের শীতলকুচিতে এই ঘটনা ঘটেছে।
গত তিন পর্বে যা হয়নি, চতুর্থ পর্বে সেটাই হলো। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে কোচবিহারের শীতলকুচিতে ১২৬ নম্বর বুথের সামনে চারজন মারা গেলেন। আহত অন্তত চারজন। সকালে শীতলকুচির অন্য একটি বুথে ভোট দিতে গিয়ে আনন্দ বর্মন বলে একজন ১৮ বছর বয়সীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে তিনি মারা গেছেন। বিজেপি-র দাবি, আনন্দ বর্মন তাদের সমর্থক।
পুলিশ জানিয়েছে, শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথের কাছে একটি ১৪ বছরের ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। তারপর রটে যায় যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে মেরেছে। এই নিয়ে দুই দলের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, মৃত সকলেই তাদের সমর্থক। তৃণমূল সমর্থক গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বিজেপি সমর্থকরা এসেছিল। উত্তপ্ত কথা কাটাকাটি হয়। তারপরই কোনো কারণ ছাড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, এমন কী ঘটনা ঘটল যাতে প্রথমেই গুলি চালাতে হলো? গুলি সবসময়ই শেষ অস্ত্র। প্রথমে লাঠি চালানো হয়, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তারপর সংঘর্ষ ভয়ঙ্কর জায়গায় গেলে গুলি চলে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেছেন, গুলি তো পা লক্ষ্য করে চালানো যেত। সোজা বুকে কী করে গুলি লাগে?
শীতলকুচির তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ”চারটে তরতাজা প্রাণ এভাবে চলে যাওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। পুরো ঘটনার জন্য বিজেপি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী।”
ঘটনার পরেই তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে একেবারে শীর্ষ স্তরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শিলিগুড়িতে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ”কোচবিহারে যা হয়েছে তা খুবই খারাপ। মৃতদের পরিবারকে আমার সমবেদনা জানাই। কিন্তু বিজেপি-র দিকে জনসমর্থন দেখে দিদি ও তার গুন্ডারা ঘাবড়ে গিয়েছে। তাই দিদি ও তাঁর গুন্ডারা সহিংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করছে। আমি কমিশনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা কড়া ব্যবস্থা নিক।”
আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনসভায় জানিয়েছেন, রোববার তিনি শীতলকুচি যাবেন। যে জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে যাবেন। বেলা দুটো থেকে দুই ঘণ্টার জন্য তৃণমূল রাজ্যের সব জায়গায় কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানাবে। তার সরাসরি অভিযোগ, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে। তৃণমূল কর্মীদের উপর এই আক্রমণ তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরেই মমতা অভিযোগ করছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি-কে জাল ভোট দিতে সাহায্য করছে।
চতুর্থ দফাতেও প্রার্থীরা আক্রান্ত হয়েছেন। দিনহাটায় তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহর গাড়িতে হামলা হয়েছে। অভিযোগ বিজেপি কর্মীরা আক্রমণ করেছিল। উদয়নের গাড়ির পিছনে সাংবাদিকদের গাড়ি ছিল। সেটিও আক্রান্ত হয়। বিজেপি-র বক্তব্য, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীলড়াইয়ের ফল। খবর ডয়েচে ভেলের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.