rockland bd

হেফাজতের কারণে সারা দেশে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: দেশের অন্তত তিনটি এলাকার থানায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো ধরনের আশঙ্কার কথা অস্বীকার করলেও ওইসব জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা হেফাজতে ইসলামের হামলার আশঙ্কার কথা বলেছেন৷
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাসুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘‘যাদের নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন, তারাই নিরাপত্তা বাড়াবে। যেখানেই হেফাজতের তৎপরতার কথা শোনা যাচ্ছে, সেখানেই নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে৷”
গত বৃহস্পতিবার সিলেটে এবং গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের থানাগুলোতে হালকা মেশিন গান (এলএমজি) ও বালুর বস্তার বাঙ্কার বানিয়ে থানাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার থানাগুলোরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়৷ পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েকটি জেলা থেকে অপারেশনাল ফোর্স বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে৷
সিলেট জেলার ১২টি এবং সিলেট মহানগরের ছয়টি- এই ১৮টি থানার নিরপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ জানা গেছে, বুধবার রাতে সিলেট রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে হামলার আশঙ্কা থেকে ওই থানাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়৷
বৈঠকে সব থানার ওসিরা ছিলেন৷ যেসব থানা এলাকায় কওমি মাদ্রাসা বেশি, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ এমনিতে পুরো সিলেট এলাকায় কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক বেশি৷
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি৷ সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের যে কর্মকাণ্ড হলো, বেশ কিছু জেলায় এই ঘটনা ঘটলো৷ এই কারণেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ যাতে আরা কোনো ধরনের হামলা বা নাশকতা না হয় তার জন্যই এই ব্যবস্থা৷ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি৷”
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ‘‘থানার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা নিয়মিত কাজ করি৷ আর যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় তার জন্য আমরা নিরাপত্তা মহড়া দিচ্ছি৷’’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরোধিতায় এবং হরতালে ওই এলাকায় নাশকতা হয়েছে৷ তারপর এক রিসোর্টে মামুনুল হককে ঘেরাওয়ের ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছে৷ পুলিশ সুপার জানান, ওই সব ঘটনায় তারা এ পর্যন্ত ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন৷ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনো অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷
নারায়ণগঞ্জের মোট ছয়টি থানা ছাড়াও পুলিশের সব ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ ওই এলাকায় অনেক কওমি মাদ্রাসা আছে৷ তাই হেফাজত সেখানে বেশ শক্তিশালী৷
এদিকে দেশের মাদ্রাসাগুলো করোনার সময়ে চালু হলেও এখন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ কওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে৷ আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এরই মধ্যে বন্ধ হলেও সব কওমি মাদ্রাসা বন্ধ হয়নি৷ আপাতত মসজিদের সামনে কোনো সমাবেশ ও করা যাবে না৷
তবে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল ইসলাম ইসলামাবাদী দাবি করেন, ‘‘হেফাজত কোথাও কোনো হামলা করেনি৷ হেফাজতের দিক থেকে কোনো হামলার আশঙ্কাও নেই৷ সরকার এখন আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এসব করছে৷”
তিনি থানায় হামলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের হামলার কথাও অস্বীকার করেন তিনি৷ খবর ডয়েচে ভেলের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.