rockland bd

উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন সমাপ্তিতে একটি উন্নত ভবিষ্যত গড়ার জন্য এবং জনগণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের সাধারণ লক্ষ্যে একত্রে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ বিশ্ব এখন একটি জটিল সময় পার করছে। কোভিড-১৯ মহামারীটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। উন্নত ভবিষ্যত গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ আজ এখানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল ডি-৮ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন।
৮টি সদস্যদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তুরষ্ক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করেছিল। এবার দশম ডি-৮ সম্মেলন ভার্চুয়ালি আয়োজন করেছে ঢাকা।
বাংলাদেশ এমন একটি সময়ে এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতিত্ব করছে যখন দেশটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং এর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইপ এরদোগান ডি-৮ এর বর্তমান চেয়ারপার্সন হিসাবে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন এবং তারপরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ডি-৮ চেয়ারম্যানশীপ হস্তান্তর করেন। এ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী দুই বছর ডি-৮ এর চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সম্মেলনে প্রযুক্তি, কৃষি, ব্যবসা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিস্তৃত বিষয়কে আলোচনায় এনে আমরা প্রায় তিন ঘন্টা যাবত ডি-৮-এর বিভিন্ন বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শুনেছি। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের সমর্থন এবং উৎসাহের সাথে সাথে ডি -৮ আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আমরা আরও বেশি কিছু অর্জন করতে সক্ষম হব।”
তিনি বলেন, “আসুন আমরা ডি -৮ কে আরও গতিশীল, আরও দূরদর্শী, আরও প্রত্যাশিত গোষ্ঠীতে রূপান্তর করি। আসুন আমরা ডি -৮ কে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই, আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য কাজ করি। আসুন আমাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের আমাদের সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করি।”
শেখ হাসিনা বলেন, আমার উদ্বোধনী বক্তব্যে, আমি উল্লেখ করেছি যে ডি -৮ এখন সমন্বয় তৈরির মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি উল্লেখ করে খুশি যে সমস্ত বিশিষ্ট রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানও একই মত পোষণ করেন। এই সাধারণ অবস্থানটি সামগ্রিকভাবে সংস্থার উচ্চাভিলাষ পূরণ করতে আমাদের সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে, আপনাদের বক্তব্য এবং পরামর্শগুলি শুনে আমি আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করছি যে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে, ডি -৮ সদস্য দেশগুলির এক বিলিয়ন প্লাস লোকের জন্য একটি ভাল আগামীকাল তৈরি করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত চার দিন সত্যই আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করেছে। যেহেতু আমরা, আমাদের মন্ত্রীগণ এবং কমিশনারবৃন্দ এই বছরের ডি -৮ এর মূল প্রতিপাদ্য — ‘রূপান্তরকামী বিশ্বের অংশীদারিত্ব: যুব ও প্রযুক্তির শক্তি বাড়িয়ে তোলে’ – নিয়ে আলোচনা করেছেন, নতুন ধারণা উৎসারিত, আলোচিত এবং গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্মেলনে নতুন সমাধান উৎসাহিত হয়েছে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করে সমাজ ও অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জন্য নতুন উপায় অনুসন্ধানও করা হয়েছে। এই প্রথম আমরা যুব সম্মেলন আয়োজন করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা এখন একটি গোষ্ঠী হিসাবে যে ডেমোগ্রাফিক লভ্যাংশ উপভোগ করছি তার সদ্ব্যবহার করি। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে আমাদের দেশের বেসরকারী খাতগুলির আরও উৎপাদনশীল, পারস্পরিক উপকারী মিথস্ক্রিয়া এবং সহযোগিতা থাকবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি এই সুযোগে আবারো বিদায়ী মহাসচিব দাতো কু জাফর কু শারিকে দায়িত্ব পালনকালে এই সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ায় রাখা অবদানের জন্য অভিনন্দন জানাবো। তার নেতৃত্বে সচিবালয় সদস্য দেশগুলির সেবার জন্য আরও প্রাণবন্ত, আরও উদ্দীপ্ত, আরও সরব হয়ে উঠেছে। আমি তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি একইসঙ্গে আগামীতে দায়িত্বে যিনি আসছেন রাষ্ট্রদূত ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমামকে ডি-৮ এর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে গঠনমূলক এবং সফল আগামী মেয়াদের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী,মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি এবং নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির পক্ষে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জিদিওফার কুউসিকে ওনিয়েমা সম্মেলনে বক্তৃতা করেন।
ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে দুটি নথি গৃহীত হয়। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ঢাকা ঘোষণা এবং অপরটি ডিসেইনাল রোডম্যাপ ফর ২০২০ থেকে ২০৩০।
সম্মেলনে ইয়াসিকা আব্দুল কাদির ইমাম নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। খবর বাসসর।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.