rockland bd

সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ উত্তেজনা: বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছে বিএসএফ

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: সিলেটের বিয়ানীবাজারের গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় ব্রিটিশ আমলে তৈরি একটি মসজিদ পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করতে গিয়ে মঙ্গলবার থেকে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিজিবি এবং বিএসএফ। পুরনো মসজিদের পাকা ভবনটি ক্ষয় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় কয়েক বছর আগে গ্রামবাসী পাশেই আরেকটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি বাঙ্কার তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে বিএসএফ।
বিজিবি জানাচ্ছে তারাও শক্তিবৃদ্ধি করেছে। এ ঘটনা নিয়ে বিজিবির সাথে কথা বলা গেলেও বিএসএফের তরফ থেকে কোন বক্তব্য বা ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
দুদিন ধরে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা এখনও চলমান। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে আটকে গেছে মসজিদটি পুনঃনির্মান কাজ।
সীমান্ত এলাকা ঘুরে এসে স্থানীয় সাংবাদিক সুয়াইবুর রহমান স্বজন বলছেন, গজুকাটা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি সীমান্ত এলাকার ১৩৫৭ নং পিলারের ভেতরে বাংলাদেশ অংশে অবস্থিত।
কিন্তু বহু পুরনো মসজিদের পাকা ভবনটি ক্ষয় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় কয়েক বছর আগে গ্রামবাসী পাশেই আরেকটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
মসজিদটির ছাদ ক্ষয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। সেখানে নামাজ পড়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আফতাবউদ্দিন বলছেন, ”আমরা গ্রামবাসীরা চার বছর আগে ২০০ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলে তৈরি মসজিদটি পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বিজিবির সহযোগিতা চাই। তখন বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির বৈঠক হয়। বৈঠকে মসজিদ নির্মাণে তাদের কোন আপত্তি নেই জানানোর পর আমরা চাঁদা তুলে কাজ শুরু করি।”
তিনি জানান, আস্তে আস্তে ফাউন্ডেশন আর পিলারের কাজও শেষ হয়। কিন্তু কিছুদিন আগে ছাদের কাজ শুরু করতে গেলে বিএসএফের সদস্যরা এসে বাধা দেয়।
দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলছেন, ”তখন বিএসএফের যে কমান্ডার ছিলেন, তিনি মসজিদ নির্মাণে কোন আপত্তি নেই বলেছিলেন। কিন্তু সেই কমান্ডার বদলি হয়ে যাওয়ার পর নতুন যিনি দায়িত্বে এসেছেন, তিনি এসেই বাধা দিতে শুরু করেছেন।”
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, সীমান্ত পিলারের অদূরে বিএসএফ কয়েকটি বাঙ্কার খনন করে অবস্থান নিয়েছে।
রীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে দেড়শ গজের ভেতর যেকোনো রকম স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ। তবে উভয় দেশের সম্মতিতে কোন স্থাপনা তৈরি বা সংস্কার করা যায়।
এর আগে যেমন ২০১৬ সালে বিজিবি-বিএসএফের ৪৩তম সম্মেলনে দেড়শ গজের ভেতর থাকা কিছু ভারতীয় গ্রামের অবস্থানে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বিএসএফের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল বিজিবি।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি-৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শাহ আলম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”এর আগে তাদের সাথে আলোচনার পরেই মসজিদটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। তখন তাদের সীমান্তের ভেতরেও একটি মসজিদ তারা সংস্কার করতে চেয়েছে, আমরা বাধা দেইনি। দেড়শ গজের ভেতর তাদের বাড়িঘরও রয়েছে। তারপরেও তারা এসে মসজিদের কাজে বাধা দিয়েছে।”
বুধবার সীমান্ত এলাকার একটি বাঙ্কার থেকে বিএসএফ চলে গেলেও এখনো তারা সীমান্তের অন্য বাঙ্কারগুলোয় অবস্থান করছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, যদিও তারা কোন বাঙ্কার করে পাল্টা ব্যবস্থা নেননি, তবে নিরাপত্তার জন্য যা কিছু করার দরকার, সেজন্য তারা পুরোপুরি সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। সেখানে বিজিবির শক্তি বৃদ্ধিও করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.