rockland bd

বেসরকারি খাতে টিকা: এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: করোনার টিকা বেসরকারি পর্যায়ে দেবে কিনা সরকার সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি৷ অন্যদিকে ৩০ লাখ ডোজ টিকা আমদানির অনুমতি এখনো পায়নি বেক্সিমকো৷
স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‘সরকার এখন ট্রায়ালকে উৎসাহিত ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করতে পারে কিনা সেদিকে জোর দিচ্ছে৷’’
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতাল ১০ লাখ ডোজ টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে৷ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মুবিন জানিয়েছেন, আবেদনের পর তারা স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সাথে বৈঠকও করেছেন৷ তারা সরকারকে দুইটি প্রস্তাব দিয়েছেন৷ প্রথমত, তারা এই টিকা বিনামূল্যে চেয়েছেন৷ আর তা না হলে সরকার যে দাম ঠিক করে দেবে সেই দামে তারা কিনে নেবেন৷ ফ্রি পেলে তারা বিনামূল্যেই এই টিকা দেবেন৷ আর দাম দিয়ে কিনলে সামান্য লাভ রেখে তারা এই টিকা দেবেন৷
তিনি বলেন, ‘‘সারাদেশে করোনার ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে কিন্তু তাতে বেসরকারি হাসপাতালের কোনো অংশগ্রহণ নাই৷ অথচ স্বাস্থ্যখাতে আমরা অনেক বড় সেবা দিয়ে আসছি৷’’
তারা তাদের এই প্রস্তাবটি ১১ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরেন৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই অনুষ্ঠানে তাদের ভ্যাকসিন দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, টিকায় বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা হবে৷
প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের সভাপতি ডা. মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘‘আমরা ভ্যাকসিন চাই৷ সরকার সেটা টাকার বিনিময়ে দিলেও আমরা নেব৷ অনেক সামর্থ্যবান আছেন যারা কিনে ভ্যাকসিন নিতে চান৷ প্রাইভেট খাতকে অবহেলা করা ঠিক না৷’’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, ‘‘আমরা তাদের আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি৷ তাদের বিনামূল্যে না অর্থের বিনিময়ে এই ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হবে তা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত৷ এখনো আমরা কিছু জানি না৷’’
আর স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান জানান, তিনি আবেদনটি এখনো দেখেন নি৷ দেখার পর সিদ্ধান্ত হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আবেদনটি এখনো আমার কাছে আসেনি৷ ডিজি আমাকে জানিয়েছেন৷ রবিবার পাব৷ এটা মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যাবে তেমন নয়৷’’
এদিকে বেক্সিমকো ফার্মা সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি চেয়েছে৷ তারা বেসরকারি খাতে এই ভ্যাকসিন বিক্রি করতে চায়৷ প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা যে ৩০ লাখ ডোজ আমাদানি করবেন তার মধ্যে ১০ লাখ ডোজের জন্য সেরামের সাথে চুক্তি হয়েছে৷ বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি ডোজের দাম পড়বে এক হাজার ১২৫ টাকা (১৩.২৭ ডলার)৷ এই মাসেই তাদের এই টিকা আনার কথা৷
তবে এই টিকা আনতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগবে৷ এই নিয়ে রাব্বুর রেজার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল ফোন এসএমএস-এর মাধ্যমে জানান, ‘‘নতুন কোনো আপডেট নাই৷’’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপারিচালক জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নয়, ঔষধ প্রশাসনের আওতায়৷ অনুমোদন দিলে তারা দেবে৷ তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি৷
তবে স্বাস্থ্য সচিব জানান, সরকার এখনো প্রাইভেট খাতে আমদানির কোনো অনুমতি দেয়নি, বেক্সিমকো ছাড়া আর কেউ আবেদনও করেনি৷ পলিসি লেভেলে সিদ্ধান্তের জন্য দুই-এক দিনের মধ্যে তারা প্রস্তাব পাবেন৷ এটা ঔষধ প্রশাসনের একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখন বরং ট্রায়ালকে উৎসাহিত করছি৷ তিন-চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের ভ্যাকসিন এখানে ট্রায়াল করতে চায়৷ আমরা সেগুলো বিবেচনা করছি৷ একইসঙ্গে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারে আমরা তার চেষ্টা করছি৷’’
এদিকে বেসরকারি খাতে টিকা দেয়ার অনুমতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ভালো৷ কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়৷ বেসরকারি খাতে বিক্রি বা আমদানির অনুমতি দিলে আবার যে সাহেদের মত ঘটনা ঘটবে না তার নিশ্চয়তা নাই৷’’
তার কথা, ‘‘তারা ব্যবসা বোঝে তাই অনেক চড়া দামে বিক্রি করবে৷ আর করেনার টিকা বলে অন্য কিছু দিয়ে অর্থ আদায় করে কিনা তার নিশ্চয়তা কে দেবে?’’
তার মতে এটি সরকারের দিক থেকে মনিটরিং করার জন্য যথেষ্ঠ লোকবল নেই৷ ফলে বেসরকারি খাতে টিকা নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷
গত রবিবার থেকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে৷ স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, এক হাজারের বেশি কেন্দ্রে এক যোগে টিকা দেয়া হচ্ছে৷ শনিবার টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়েছে৷
বাংলাদেশ বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতে সেরাম ইন্সটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনছে৷ এরমধ্যে ৫০ লাখ ডোজ হাতে পেয়েছে৷ আর একই টিকা ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার পেয়েছে ২০ লাখ ডোজ৷ খবর ডয়েচে ভেলের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.