rockland bd

নির্বাচনি ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণ হতাশ: ওয়ার্কার্স পার্টি

0

 ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকারের ঘনিষ্ঠ শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির নেতারা বলেছেন, নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্রের হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ এখন আর গোপন নয়, প্রকাশ্য। নির্বাচন কমিশন তা পুরোপুরি জ্ঞাত থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। জিয়া-এরশাদ আমলের ভোটারহীন হুণ্ডা-গুণ্ডা নির্বাচনের ঐতিহ্যও এখন ম্লান হয়ে গেছে।
সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে শনিবার ভার্চ্যুয়াল (জুম) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দলটির পলিটবুরোর সদস্য কামরুল আহসান বলেন, সামরিক সরকারের আমল থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছে তার দল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা অর্জন করা যায়নি। এখন নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনি ব্যবস্থা সম্পর্কে দেশের জনগণ একেবারেই হতাশ।
দলটি তার রাজনৈতিক প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দল এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জোটভুক্ত দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে দেশের মানুষ নির্বাচনি ব্যবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোট বাক্স আগেই ভরে রাখা, জোর করে ব্যালটে সিল প্রদান, ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়া, ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার যেসব অনিয়ম রয়েছে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইভিএমে কারচুপির সুযোগ রাখার জন্যই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরবর্তীকালে ভোটের ফলাফল নিরীক্ষার জন্য ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিএটি) রাখার কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশকেও উপেক্ষা করেছিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফলাফলের অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ যে উঠেছে, তা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন যেমন রাউজান, ফেনীসহ কয়েকটি অঞ্চলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার অর্থই ‘নির্বাচন’ হয়ে যাওয়া, তারই বিস্তৃতি ঘটবে সারা দেশে।
২০০৮ সালে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়েছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয় কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এর অধঃপতন ঘটেছে। এ থেকে নির্বাচনি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার না করলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ পরিপূর্ণ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলসহ সব রাজনৈতিক দলই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
নির্বাচন কমিশনে আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দেখা ও নির্বাচন কমিশনকে যথাযোগ্য আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি।
এদিকে, আজ রোববার সকাল আটটা থেকে চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রে আসার আগেই ভোটারদের আটকে দেওয়ার ‘কায়দা’ শেখানো, এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং প্রচারে সংঘাতের নানা ঘটনা চতুর্থ দফার পৌরসভা নির্বাচনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বার বার বলা হলেও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এর আগে তিন দফায় অনুষ্ঠিত পৌর ভোটের দিন সহিংসতার পাশাপাশি নানা অনিয়মের ঘটনা দেখা গেছে। তখনো ইসির ভূমিকা ছিল অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০টি পৌরসভায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ঠাকুরগাঁও সদর ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভায়। যে ৩০টি পৌরসভায় সংঘর্ষ হয়েছে, তার মধ্যে ১৮টি ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। আর ছয়টি ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।
সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটে অন্তত আটটি পৌরসভায়। আর ১০টি পৌরসভায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছিলেন। খবর পারস টুডের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.