rockland bd

করোনার টিকা কেনার স্বচ্ছতা নিয়ে টিআইবি’র উদ্বেগ

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: দেশে করোনার টিকা সংগ্রহ, টিকা সংরক্ষণ এবং দেশব্যাপী টিকা বিতরণের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ৬ মাসে দেড় কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার একটি কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউএসএআইডিসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কাজ চলবে। বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে এ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ-কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও করোনার টিকার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কারা টিকা পাবেন, তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: এবিএম খুরশিদ আলম।
রোগতত্ত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ডাক্তার মুশতাক হোসেন জানান, করোনার টিকা প্রথম সরবরাহ আসার পর প্রয়োজনে পরিকল্পনায় কিছু রদ-বদল হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মাসের ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ভারত থেকে টিকা আনবে বেক্সিমকো। জেলা পর্যায়ে বেক্সিমকো সেই টিকা পৌঁছে দেবে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জেলা থেকে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত টিকা পরিবহন করবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এই টিকা উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট। সেরামের কাছ থেকে তিন কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ। তবে সেরাম ইন্সটিটিউটের কাছে করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে ভারতের চেয়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশের। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সেরামের উৎপাদিত টিকা কোভিশিল্ডের প্রতি ডোজ কিনতে বাংলাদেশকে খরচ করতে হচ্ছে ৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম পড়ে প্রায় ৩৪০ টাকা (১ ডলার‍= ৮৪.৯৬ টাকা)।
রয়টার্স জানিয়েছে, সেরামের কাছ থেকে ভারত সরকার প্রতি ডোজ টিকা কিনছে ২০০ রুপি বা ২.৭২ ডলার দরে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি ২৩১ টাকার মতো। এই হিসাবে, বাংলাদেশকে টিকার প্রতি ডোজ কিনতে ভারতের চেয়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ভারত থেকে টিকা আনবে বেক্সিমকো
ওদিকে, কোভিড-১৯ টিকা নিবন্ধন কার্যক্রমে একটি অ্যাপ তৈরি নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) করোনাভাইরাসের টিকা কেনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি দূর করতে সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, করোনাকালে জরুরি কেনাকাটার নামে স্বাস্থ্য খাতে অবারিত দুর্নীতির ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে টিকা কার্যক্রমে আইন ও বিধি যথাযথ অনুসরণ জরুরি।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার মনে রাখা জরুরি যে মহামারি যেন কোনোভাবেই কারও জন্য অন্যায় সুবিধার মাধ্যমে পকেট পূর্তির উৎসবে পরিণত না হয়।’
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ভারত থেকে সরাসরি কেনা টিকার জন্য বেক্সিমকোকে তাদের খরচ ও কমিশন বাবদ যে মূল্য দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা কোন্ নীতি বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেয়া হয়েছে, এর পেছনে যুক্তি বা বিবেচনা কী ছিল, তা–ও পরিষ্কার নয়। এটি যেকোনো পর্যায়ের সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে টিকার প্রয়োগ নিয়েও বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ও বিভ্রান্তি দূর করে মানুষের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যায়, তার ওপর। করোনার টিকাদান কর্মসূচি সফল না হলে দ্রুত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে। খবর পারস টুডের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.