rockland bd

চীন-পাকিস্তানের যৌথ আক্রমণ রুখতে আমরা তৈরি: ভারতীয় সেনাপ্রধান

0

বিদেশ ডেস্ক, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় একাধিক পয়েন্টে ভারত ও চীনের সেনা এখনও চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে। সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে এরকমই জানিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, চীন ও পাকিস্তানের যৌথ আক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঠিক সেই কারণেই ভারতীয় সেনা এরকম আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মঙ্গলবার সেনাপ্রধান মনোজ নারভানে জানিয়েছেন। সেনাপ্রধান বলেছেন, প্রত্যেক বছরই প্রশিক্ষণের জন্য চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তিব্বতে আসে। সেখানে তারা থেকেও যায় একটানা। ভারতীয় সীমান্তের কাছে চলেও আসে ট্রেনিংয়ের সময়। এবারও এসেছিল। ট্রেনিং পর্ব শেষ হলে তারা ফিরেও যায় আবার।
কিন্তু লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ২০২০ সালের মে মাস থেকে যা হয়েছে, তার পর আর কোনও ঝুঁকি নেওয়া অথবা শিথিলতা দেখানোর প্রশ্ন নেই। কারণ, তিব্বতের যেখানে প্রশিক্ষণের জন্য চীনের সেনাবাহিনী আসে, সেখান থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ভারত ও চীনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় তারা পৌঁছে যেতে পারে। এই কারণেই ভারতীয় সেনা সতর্ক। গত মে মাসে লাদাখ কাণ্ডের পর থেকে দফায় দফায় ভারত ও চীনের মধ্যে সেনা, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক স্তরে বৈঠক হয়েছে। প্রতিটি বৈঠকেই চীন বলেছিল তারা ধীরে ধীরে মোতায়েন করা এবং সেনা ও ট্যাঙ্ক কমিয়ে আনবে।
শেষবার নভেম্বর মাসে এই বৈঠক হয়েছে দু‌’঩দেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্তরের বৈঠকে। সেখানেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল শীত পুরোদমে আসার আগেই সেনা সরিয়ে নেবে চীন। ভারত জানিয়েছিল, যদি চীন সেনা সরিয়ে নেয়, তাহলে ভারতও পূর্বাবস্থায় সরিয়ে নেবে সেনাবাহিনীকে। কিন্তু চীন লাদাখের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা সরায়নি। আজ ভারতের সেনাপ্রধান বলেছেন, চীনের সেনা একই স্থানে মোতায়েন আছে। পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। গত বছর মে মাসে পূর্ব লাদাখের উল্টোদিকে এসেছিল চীনের সেনারা। সেটা ছিল রুটিন প্রশিক্ষণ। আমরা এরকমই ভেবেছিলাম। কিন্তু তারপর তারা যেটা করেছে সেটা আমাদের ধারণা ছিল না।
ভারত প্রাথমিকভাবে তা জানতে পারেনি। কিন্তু পরে আমরা সেই সংবাদ পাওয়ার পরই তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। আর যে সুবিধাজনক অবস্থায় চীনের সেনারা পৌঁছে গিয়েছিল, গত আগস্ট মাসেই ভারতীয় সেনারা সেই সুবিধাজনক পজিশন নিয়ে ফেলেছে। সেনাপ্রধান বলেছেন, আলোচনা, বৈঠক, সেনা সরানোর প্রক্রিয়া চললেও আমরা তৈরি আছি টু ফ্রন্ট ওয়ারের জন্য। অর্থাৎ চীন যে পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়েই আগ্রাসী মনোভাব নিতে পারে সেটা ভারত জানে। সেজন্য ভারতও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খবর কলকাতার বর্তমান পত্রিকার।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.