rockland bd

তাপস-খোকন দ্বন্দ্বে কি বেরিয়ে আসছে থলের বেড়াল?

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের৷ দুইজনের তথ্য নিয়েই তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি৷
পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের৷ দুইজনের তথ্য নিয়েই তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি৷
শুরুটা গত মাসে ডিএসসিসি’র ফুলাবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে৷ সেসময় সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন দাবি করেন দোকানগুলো অবৈধ নয়৷ আদালতের নির্দেশে বৈধতা দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু বর্তমান মেয়র ফজলে নূর তাপসের দাবি দোকানগুলোর কোনো বৈধতা নেই৷ সেগুলো রাস্তা ও মার্কেটের ভিতরের, লিফটের ও সিঁড়ির জায়গা দখল করে বানানো হয়েছে৷ এরকম দোকান মোট ৯১১টি৷
এসব দোকেনের ব্যবসায়ীরা দাবি করেন তারা সিটি কর্পোরেশনকে দোকান প্রতি ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন৷ ওই মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু এরই মধ্যে আদালতে একটি মামলা করেছেন, যা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)৷ মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা দোকানের জন্য সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা দিয়েছেন৷ এর বাইরেও আরো নগদ টাকা দেয়া হয়েছে সাবেক মেয়রকে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা কাছে সব ডকুমেন্ট আছে৷ কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কত টাকা দেয়া হয়েছে তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট আছে৷ মামলায় এইসব ডকুমেন্ট আমি সংযুক্ত করেছি৷’’ তার আরো অভিযোগ, সাবেক মেয়র তার সহযোগীদের নিয়ে এই টাকা দিতে বাধ্য করেছেন৷ তাই সাঈদ খোকন ছাড়া আরো পাঁচজনকে এই মামলায় বিবাদি করা হয়েছে৷
এদিকে শনিবার ঢাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বর্তমান মেয়র ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন৷ তিনি দাবি করেছেন, ‘‘তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন এবং শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন৷ অন্যদিকে, অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না৷ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে৷’’
এসব কারণে ফজলে নূর তাপস দক্ষিণ সিটি কের্পোরেশন আইনের লঙ্ঘন করে মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হরিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷
এই কথার জবাবে ফজলে নূর তাপস রোববার এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমকে বলেন,‘‘এটা ওনার (সাঈদ খোকন) ব্যক্তিগত অভিমত৷ এটা কোনো গুরুত্ব বহন করে না৷ ব্যক্তিগত আক্রোশের কোনো বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়াটাও সমীচীন মনে করি না৷’’ কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা ভ্রান্ত কথা৷ এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই৷’’ খবর ডয়েচে ভেলের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.