rockland bd

তাঁতিদের হাতে পৌঁছেনি প্রণোদনা, অস্তিত্বের সংকটে তাঁত শিল্প!

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে উৎসব-পার্বণ বন্ধ থাকা এবং হাট-বাজারে বেচা বন্ধ থাকায় শাড়ী, লুঙ্গি, গামছাসহ তাঁতবস্ত্রের বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এরিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁত।
কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে যেসব তাঁত চালু আছে সেগুলোও পুঁজি সংকটের কারণে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ইতোমধ্যে বেকার হয়ে গেছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। পথে বসেছে অনেক ছোট তাঁত মালিক।
বাংলাদেশের বৃহত্তম কুটির শিল্প হস্তচালিত তাঁতশিল্প, আর এর ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হল পাবনা-সিরাজগঞ্জ। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ তাঁত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। তাছাড়া, এবারের কয়েক-দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প।
তাঁতিরা জানিয়েছে, একেতো করোনা সংকট তার মধ্যে আবার কয়েকগুণ বেড়েছে রঙ, সুতাসহ কাঁচামালের দাম। যে সুতার রোলের দাম আগে ৩ হাজার ছিল বর্তমানে সেই রোলের দাম পড়ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা।
এ অবস্থায় তাঁত মালিকরা ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ায় কর্মহীন শ্রমিকেরা। অল্প সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কোনভাবে টেনেটুনে চলছে এরকম কারখানায় যে অল্প সংখ্যক শ্রমিক কাজ করছে তারাও যে কোন সময় কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি মহম্মদ মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, করোনায় সরকারের দেয়া প্রণোদনা পৌঁছায়নি তাঁতিদের হাতে। ছোট ছোট তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা দারুণ সংকটে পড়েছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে লিপ্ত মালিকরা জানান, তারা আর্থিক সংকট কাটাতে ব্যাংকে গেলে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং জায়গা-জমির দলিলসহ নানা রকম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা কোন ঋণ পান না। এমনকি করোনার সংকট মোকাবিলায় সরকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্বার্থে সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে তাও তারা পাননি বলে মালিক পক্ষের অভিযোগ।
তবে বাংলাদেশ তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রণোদনাসহ নানাভাবে চেষ্টা করছে তাঁতশিল্পের উন্নতি করার জন্য। তাঁত শিল্পের সংকটের বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলও জানিয়েছেন, করোনার কারণে এ বছর বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ ও দুই ঈদে নতুন কাপড়-চোপড়ের বেচাকেনা ভাল হয়নি। দুর্গাপূজাতেও শাড়ি লুঙ্গি নিতে পাইকারি বাজারে আসেনি বেপারিরা।
ওদিকে, এসব উৎসব সামনে রেখে ব্যাংক ঋণ নিয়ে তৈরি করা পণ্যগুলো অবিক্রীত থাকায় বেড়েছে লোকসানের বোঝা। অনেকে হারিয়েছেন তাদের পূঁজি। ক্রমাগত লোকসান আর করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পারস টুডের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.