rockland bd

করোনা: ত্রিশ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আশঙ্কা

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: বাংলাদেশে করোনাকালে দীর্ঘ সাত মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখাপড়ায় আগ্রহ কমছে ছাত্রছাত্রীদের। টানা গৃহবন্দী দশায় থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ের প্রতি তৈরি হয়েছে অনীহা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনাপরবর্তী সময়ে স্কুল-কলেজ খুললেও অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে আর ক্লাসে ফিরে আসা সম্ভব হবে না।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাপরবর্তী সময়ে পরিবারের আর্থিক দৈন্য আবস্থায় প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা প্রকট হবে। খরচ জোগাতে না পেরে অনেক অভিভাবকই সন্তানের লেখাপড়া চালাতে অপারগ হবেন।
এরকম অবস্থায় দরিদ্র পরিবারের অনেক মা-বাবা তাদের কন্যা সন্তানের পরিণত বয়সের আগেই বিয়ে দিয়ে দেবে। আর ছেলেসন্তানকে সংসারের জন্য আয়ের কাছে লাগিয়ে দেবেন এমনটি স্বাভাবিকভাবেই আশংকা করা যায়।
এ প্রসংগে বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষিকা খালেদা ইয়াসমীন রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন,করোনাকালে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা চালু হলেও তা গ্রামীণ পর্যায়ে সকলের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ অনেকের বাড়িতে টেলিভিশন বা ইনটারনেট যুক্ত স্মার্ট ফোন নেই। ফলে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যাচ্ছে এবং আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
খালেদা ইয়াসমীন আরো জানান, তার স্কুলের শিক্ষকগণ যাদের সাথে সম্ভব ফোনে যোগাযোগ করে পাঠ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন এবং ভাগাভাগি করে নিকটবর্তী শিক্ষার্থীদের বাড়ীতে গিয়ে লেখাপড়ার অগ্রগতি তদারকি করছেন। কিন্তু এসব অবশ্যই স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষে সহপাঠীদের সাথে একত্রে বসে শিক্ষকের কাছ থেকে সামনা-সামনি পাঠগ্রহণের পরিপূরক নয়।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যয় করলেও এখন ২ ঘণ্টার বেশি কেউই বই-খাতা নিয়ে বসছে না।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, করোনার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রমের হারও বেড়েছে। করোনার আগের সময়ে পরিবারের আয়মূলক কাজে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জড়িত থাকলেও এখন এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনার এই মহামারি কেটে গেলেও আর্থিক অনটনের কারণে ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তত ত্রিশ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্কুলে ফিরে আসা কঠিন হবে। কারণ চলমান মহামারির ফলে অনেক গরিব পরিবার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তাদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতে চাইবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিবারগুলো চিহ্নিত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। খবর পারস টুডের।
আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.