rockland bd

আশরাফ মাহদী নিখোঁজ : ফেসবুক সরগরম

0

আশরাফ উদ্দীন মাহদী

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: ইসলামী ঐক্যজোটের প্রয়াত চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র আশরাফ উদ্দীন মাহদী নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম৷ এর কারণ কেউ বলছেন রাজনৈতিক বিভক্তি, কেউ বলছেন পারিবারিক বিরোধ৷মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহদী সম্প্রতি দেশে আসেন৷ একটি মামলায় গ্রেফতারও হন এবং জামিন পান৷ এরপর হঠাৎ করে নিখোঁজ হন এবং নিখোঁজ হবার আগে ইসলামী ঐক্যজোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকে এর জন্য দায়ী করেন৷ খবর ডয়েচে ভেলের
এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘আশরাফ মাহদীর ঘটনার সঙ্গে হেফাজতের কোন সম্পর্ক নেই৷ আসলে ইসলামী ঐক্যজোটের মধ্যে আমিনী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের বিরোধ থেকেই আলোচনায় এসেছেন আশরাফ মাহদী৷ আমিনী সাহেবকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে আশরাফ যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তখনই বিবাদের শুরু৷ এরপরই আমিনীর পরিবার দুই ভাগ হয়ে যায়৷ এক গ্রুপে আছেন ইসলামী ঐক্যজোটের বর্তমান মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, আমিনী সাহেবের ছেলে হাসনাত, সাবেক খাদেম মাওলানা আলতাফ৷ আর অন্য গ্রুপে আছেন আমিনী সাহেবের দুই জামাই যারা লালবাগ মাদ্রাসায় আছেন৷ আশরাফ মাহদীর বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুফতি সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা জুবায়ের৷”
আশরাফ মাহদী নিখোঁজ ও ফেসবুক স্ট্যাটাস
গত ৬ আগস্ট রাতে আশরাফ মাহাদী নানীর (মুফতি ফজলুল হক আমিনীর স্ত্রী) সঙ্গে দেখা করে বাসায় ফেরার সময় লালবাগ কেল্লার সামনে থেকে নিখোঁজ হন৷ রাত ১১টা ২৭ মিনিটে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের নিখোঁজের কথা বলেন আশরাফ৷ সেখানে তিনি লিখেছেন, তার কিছু হলে ফয়জুল্লাহ-আলতাফ গংকে দায়দায়িত্ব নিতে হবে৷ এই ঘটনার পর ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়৷ শনিবার পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি৷ আশরাফ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন৷ জসিম উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় আমি সন্তুষ্ট৷ আমার সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক কথা হচ্ছে৷ আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই আশরাফ মাহদী আমাদের কাছে ফিরে আসবে৷”
নিখোঁজ হওয়ার আগে সর্বশেষ আশরাফের দেখা হয় তার খালু মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে৷ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘নানুর সঙ্গে দেখা করে যখন আশরাফ বাসায় ফিরে যাচ্ছিল তখন পথের মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা হয়৷ কুশলাদি বিনিময়ের পর সে বাসায় যাওয়ার কথা বলে৷ কয়েক মিনিট পরে ১১টা ২৭ মিনিটে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেখি৷ সেখানে সে লিখেছে, লালবাগের বাসা থেকে ফেরার পথে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে৷ আমার কিছু হলে দায়ী থাকবে ফয়জুল্লাহ-আলতাফ গং৷”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘আশরাফ মাহদী আমার ছেলের মতো৷ ওর বাবা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু৷ একসঙ্গে রাজনীতি করি৷ কেন সে এই অভিযোগ করল সেটা বুঝতে পারছি না৷ ও নিখোঁজ হওয়াতে আমরাও উদ্বিগ্ন৷ আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুজি করছি৷”
আশরাফের কোন সন্ধান পাওয়া গেছে কি-না জানতে চাইলে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘নিখোঁজ আশরাফের বাবার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ আছে৷ আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি তাকে খুঁজে বের করার জন্য৷”
হঠাৎ কেন আলোচনায় আমিনী পরিবার
কয়েকদিন আগে ফেসবুকে আশরাফ মাহদী একটি স্ট্যাটাস দেন৷ সেখানে তিনি অভিযোগ আনেন মুফতি আমিনীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে৷ এই হত্যার জন্য মুফতি ফয়জুল্লাহ ও আলতাফসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন তিনি৷ এছাড়া কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের বৃহৎ বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ এর বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ করেন৷
পরবর্তিতে মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনী (যিনি আশরাফ মাহদীর আপন মামা) তিনিসহ আরও কয়েকজন ফেসবুক লাইভে এসে এসব অভিযোগ অমূলক উল্লেখ করেন৷ এরপরই বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়৷
কয়েকদিন পর ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা ওসমান কাসেমের উপর অজ্ঞাত পরিচয় কিছু যুবক হামলা করে৷ যে হামলার পর ১৯ জুলাই তাদের রক্তাক্ত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে৷ ওই দিন চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় ওসমান কাসেম একটা মামলা দায়ের করেন৷
মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়৷ নাম উল্লেখ করা সর্বশেষ অর্থাৎ ৯ নম্বর আসামি হিসেবে হাফেজ মাওলানা আশরাফ মাহদীর নাম বলা হয়েছে৷ এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ২৮ জুলাই আশরাফ মাহদীকে আদালতে তোলা হয়৷ আদালত তার জামিন দেন৷ এরপর থেকে তিনি বাসাতেই ছিলেন৷
মামলাটির তদন্ত করছেন চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুর রহিম৷ তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘৯ জন আসামীর মধ্যে একমাত্র আশরাফ মাহাদী গ্রেফতার হয়েছে৷ তাকে আদালত জামিন দিয়েছেন৷ বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন৷”

এবিএস

Comments are closed.