rockland bd

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের অভিযান, ২ পাক সেনা নিহত

0

বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :
সীমান্তপারের ‘সন্ত্রাসী’ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ভারত। গতকাল বুধবার শেষরাত ও আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) পেরিয়ে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে। তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি ঘাঁটিতে হানা দিয়ে ফিরে আসে।
অন্যদিকে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরে পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুই সেনা নিহত হয়েছে। নিহত দুজন পাকিস্তানের সেনাসদস্য।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) থেকে এ সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে এ গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত এ গোলাগুলি অব্যাহত থাকে।
ভারতীয় বাহিনীর চালানো ‘সফল’ এই অভিযানকে সামরিক পরিভাষায় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলা হচ্ছে। অভিযান চালানোর পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি পাকিস্তানকে অবহিত করার কথা জানানো হয়েছে।
আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের পাশে বসে দেশটির সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনসের মহাপরিচালক (ডিজিএমও) লে. জেনারেল রণবীর সিং অভিযানের বিষয়ে তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় বাহিনীর এ অভিযানে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর (লাইন অব কন্ট্রোল) ভারতীয় বাহিনী কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই পাকিস্তানি অবস্থানে গুলিবর্ষণ করেছে বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে। আর ভারতীয় গুলিতে তাদের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে।পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর জানায়, ভারতীয় বাহিনী ভিমবার, হটস্প্রিং, কেল ও লিপা সেক্টরে গুলি চালিয়েছে। তবে পাকিস্তানি সৈন্যরাও সমুচিত জবাব দিয়েছে।
আজ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা-বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডাকেন। এরপরই রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানের কথা ঘোষণা করা হয়।
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল এন এন ভোরা ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকেও অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আক্রমণ কোথায় হয়েছে, তার চরিত্র ঠিক কী ধরনের, তা বিস্তারিত জানাননি রণবীর সিং। তবে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের শিবির এবং যারা তাদের ভারতে পাঠিয়ে হামলা চালাতে সাহায্য করছে, তারাই ছিল ভারতীয় বাহিনীর লক্ষ্য। ভারত বারবার পাকিস্তানকে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বললেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ভারতকে এই অভিযান চালাতে হয়েছে।
রণবীর সিং বলেন, পাকিস্তানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই হানা শেষ। আগামী দিনে এমন ধরনের আর কোনো আক্রমণের পরিকল্পনা ভারতের নেই।
ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর অনুযায়ী, মোট পাঁচটি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়। নিয়ন্ত্রণরেখার ৫০০ মিটার থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতীয় সেনারা ঢুকেছিল। গতকাল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই আক্রমণ চলে। এই হানায় প্যারাট্রুপারদেরও ব্যবহার করা হয়।
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসীরা বারবার ভারতে আক্রমণ চালাচ্ছে। পাঠানকোট সেনাছাউনিতে হামলার পর উরি সেনাছাউনি আক্রান্ত হয়। সেখানে ১৮ জন জওয়ান নিহত হন। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সংঘর্ষ-বিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। কোনো কিছুতে লাভ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের চরিত্র কী, সেনাবাহিনীকে এই হানায় ভারতীয় বায়ুসেনাও সাহায্য করেছে কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

Comments are closed.