rockland bd

উত্তাপ ছড়ালো হিলারি-ট্রাম্প প্রথম মুখোমুখি বিতর্ক

0

বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :

উত্তাপ ও পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে দেড় ঘন্টাব্যাপী হিলারি-ট্রাম্পের প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক শেষ হয়েছে। নানা ইস্যুতে একে অপরকে ঘায়েলের চেষ্টা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি শারীরিকভাবে যোগ্য নয় বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প অপরদিকে নারীদের প্রতি ট্রাম্প শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন হিলারি। এরপর দুই প্রার্থী অভিবাসন, নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
বিতর্কের পর সিএনএন-ওআরসির প্রকাশ করা এক জরিপে বলা হয়, হিলারি জয়ী হয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ মনে করেন হিলারি জয়ী হয়েছেন। আর মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া দুই প্রার্থী ই-মেইল ও ট্যাক্সের মত ব্যক্তিগত আলোচিত বিষয় নিয়েও কথা বলেন। এনবিসি টেলিভিশনের উপস্থাপক লেস্টার হল্টের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ টায় প্রথমবারের মত সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হন মার্কিন নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেড় ঘন্টাব্যাপী এই বিতর্ক প্রায় ১০ কোটি আমেরিকান দর্শক দেখেছেন।
নিউইয়র্কের হফট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় ঘন্টার জন্য হিলারি ও ট্রাম্প মুখোমুখি হয়েছেন। এটি টেলিভিশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা বিতর্ক।
কিভাবে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হবে, মার্কিনীদের পকেটে টাকা আসবে, এই প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। দুইজনই দুই মিনিটের মধ্যে উত্তর দেন। হিলারি তার নাতনির জন্মদিনের কথা উল্লেখ করে লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যবধান কমানো ও পরিবার ত্যাগের জন্য অর্থ দেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও ব্যবসায় চুরির জন্য চীন ও মেক্সিকোকে দায়ী করেছেন। আমরা মধ্যবিত্তের জন্য যত কিছু করতে পারবো তত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক বলে জানান হিলারি।
ব্যবসায়ীদের ওপর ট্যাক্স চাপানো উচিত হচ্ছে না ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর হিলারি বলেন, আপনি কত টাকা ট্যাক্স প্রদান করেছেন? এখনও কেউ জানে না আপনার ট্যাক্স হিসেব। দ্রুত ট্যাক্স হিসেব প্রদান করুন। কারণ আপনার আগের সকল প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সবার আগে এই কাজটি করেছে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, হিলারি যত দ্রুত তার ইমেল প্রকাশ করবে, আমিও তত দ্রুত ট্যাক্সের হিসেব প্রকাশ করব।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ক বিতর্কে হিলারি বলেন, নতুন চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি করব আমরা, নতুন কাজ শুরু করব। বড় কোম্পানিগুলো তাদের লভ্যাংশ ভাগ করে নেব। শুধু উচ্চ পর্যায়ের এক্সিকিউটিভদের সঙ্গে নয় বরং সবার সঙ্গে।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের চাকরির সুযোগ বিদেশিরা চুরি করছে। সেই সঙ্গে বিদেশিদের কাছ থেকে আমাদের কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করতে হবে। বিদেশি কোম্পানি ও আমাদের ট্যাক্স ব্যবস্থা এক হতে পারে না।
হিলারি বলেন, আমরা ট্রাম্পের অর্থনীতির এই মতবাদকে ‘ট্রাম্পড আপ ট্রিকেল ডাউন’ নাম দিয়েছি। কারণ এভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা খুব একটা সম্ভব হবে না বলে মনে হয়। তার পরিবর্তে আমরা যদি মধ্য আয়ের মানুষগুলোকে নিয়ে ভাবি। আমরা যদি তাদের জন্য নতুন নতুন চাকরীর সুযোগ তৈরি করতে পারি, তাহলে সেটি হবে কার্যকর ব্যবস্থা।
ট্রাম্প তার উত্তরে বলেন, না, শুধু চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না। সেই সুযোগগুলো রক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের দেশের ব্যবসাগুলোকে চীনের ব্যবসা থেকে রক্ষা করতে হবে। যা গত ৮ বছর ধরে করা সম্ভব হচ্ছে না। হিলারি এর উত্তরে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে সেটি করা সম্ভব হয়নি।
ট্রাম্প জানান, এটি গত ৩০ বছরে সম্ভব হবে না। এখনও হিলারির পলিসিতে সম্ভব হবে না। ট্রাম্প বাস্তবতার মুখোমুখি না হয়ে আলোচনা করছে বলে অভিযোগ করেন হিলারি। এর উত্তরে ট্রাম্প জানতে চান, অর্থনৈতিক এমন সমস্যার জন্য কি ওবামা সরকার দায়ী?
সূত্র: সিএনএন ও এবিসি নিউজ

Comments are closed.