rockland bd

ফ্ল্যাট কিংবা জমি কেনার আগে ভাবুন

0

রিপন বসুনিয়া


বর্তমান সময়ে রাজধানী ঢাকাতে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা অনেকটাই দূরহ ব্যাপার। একে তো জমির আকাশ ছোয়া মূল্য আবার চাহিদামত জমি পাওয়াও খুব সহজ নয়। এরকম পরিস্থিতিতে অনেকে ঝুঁকে পড়ছেন ফ্ল্যাট ক্রয়ের দিকে। রাজধানীতে এখন অনেক গুলো কোম্পানি বিশাল বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করছে। এতে করে অনেকের রাজধানীতে স্থায়ী মাথা গোজার স্থান হলেও অনেকে আবার পড়ছে নানা ধরনের ঝাক্কি ঝামেলায়। যেমন- প্রতারিত হওয়া, যথা সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। কাজেই আপনার সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করার আগে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

ফ্ল্যাট কেনার আগে আপনাকে কাগজপত্র তৈরীর সময় খেয়াল রাখতে হবে জায়গার কোন ভেজাল বা মালিকানাতে কোন সমস্যা আছে কিনা বা আপনি মূল মালিকের সঙ্গে লেনদেন করছেন কিনা। একটু সচেতন থাকলে সেগুলো খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ফ্ল্যাট-প্লট কিনতে হলে আপনি কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, প্রথমে তার একটি হিসাব করে ফেলুন। তারপর পছন্দমতো ফ্ল্যাট খুঁজুন। আবাসন প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কি না, তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা এড়াতে কেনা বা বুকিং দেওয়ার আগে ক্রেতাদের দেখতে হবে, কোম্পানিগুলোর বৈধ অনুমোদনপত্রের নকশা আছে কি না। সতর্ক থাকতে হবে, প্লট প্রকল্পটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পড়েছে কি না। আবার যে এলাকায় প্রকল্পটি, সেখানে আদৌ তাদের জমি আছে কি না। প্রয়োজনে প্রকল্প এলাকায় গিয়েও খোঁজ নিতে পারেন। ফ্ল্যাট কেনার সময় দেখতে হবে, ভবনের নকশা রাজউক অনুমোদিত কি না। কেননা, নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরি না হলে রাজউক সেই ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দিতে পারে।

ফ্ল্যাট-প্লট কিনতে ক্রেতার অবশ্যই কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকতে হবে। টিআইএন ছাড়া ফ্ল্যাট-জমি নিবন্ধন করা যাবে না। আর সেই টিআইএনের বিপরীতে নিয়মিত বার্ষিক কর বিবরণী জমা দিতে হবে। ফ্ল্যাট বরাদ্দের নির্দিষ্ট সময় এবং সব শর্তগুলো ভালো করে বুঝে নিতে হবে। কিস্তিতে ফ্ল্যাট নিলে শেষ কিস্তি পরিশোধের আগেই তার এক মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রশন দলিল বুঝে নিবেন। তবে যদি কোনো কারণে আপনার কিস্তির সময়সীমা বর্ধিত করতে হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে নিবেন নতুবা আপনি ঝামেলাতে পড়তে পারেন।

ফ্ল্যাট কেনার সময় উপরোক্ত বিষয়গুলো জেনে বুঝে নিয়েই তবে ফ্ল্যাট বুকিং দিন। আরকেটা বিষয় ফ্লাট সাইজ যা বিজ্ঞাপনে দেয়া হয় সেটা কমন স্পেসসহ মানে লিফট+সিড়িঘর সব মিলে হিসেব করে কি না, সেটা আগেই জেনে নিবেন। সব কিছু বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিলে এ ধরনের সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাবেন, মনে রাখবেন হুটহাট কোনো প্রলোভনে বিগলিত হবেন না, কারো চাটুগিরির শিকার না হওয়াই ভালো।

ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তিতে অবশ্যই যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হবে তার বিবরণ থাকতে হবে। প্রণীত অনুমোদিত নকশা আবাসন নির্মাতা দিতে বাধ্য থাকবেন। চুক্তির ভিত্তিতে পছন্দসই ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেবেন এবং আপনার বিনা অনুমতিতে বরাদ্দ করা প্লট বা ফ্ল্যাট পরিবর্তন করতে পারবেন না। চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দিতে আপনি বাধ্য থাকবেন না। যদি কোনো উন্নতমানের সরঞ্জাম সংযোজনের দরকার হয়, তবে দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া যেতে পারে।

সমুদয় মূল্য পরিশোধের তিন মাসের মধ্যে আবাসন নির্মাতা দখল হস্তান্তর, দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে দেবেন। হস্তান্তরকালে আয়তন কমবেশি হলে তার মূল্য ক্রয়মূল্য অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। আবাসনের মূল্য ব্যাংকের মাধ্যমে এককালীন বা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এককালীন বা কিস্তিতে মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে আবাসন নির্মাতা ৬০ দিন আগে নোটিশ দিয়ে বরাদ্দ বাতিল করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি জমা করা অর্থ পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে চেকের মাধ্যমে একসঙ্গে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। আপনি বিলম্বিত সময়ের জন্য কিস্তির অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে সুদ প্রদান সহকারে কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। এটি তিনবারের বেশি করতে পারবেন না।

আবাসন নির্মাতা নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে চুক্তিতে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণসহ সব অর্থ আপনাকে ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। আর চুক্তিতে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ না থাকলে তা পরিশোধিত অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে।

কোনো কারণে বরাদ্দ বাতিল করতে চাইলে আবাসন নির্মাতাকে আপনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিশোধিত অর্থের ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ তিন মাসের মধ্যে এককালীন চেক বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দিতে হবে।

বাংলাটুডে/আর বি

Comments are closed.