rockland bd

চলতি শিক্ষাবর্ষকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর পরামর্শ, সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

0


ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলাটুডে টোয়েনটি ফোর ডটকম :
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ হয়ে আছে। ঈদুল ফিতরের আগে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এজন্য চলতি শিক্ষাবর্ষকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এ ব্যাপারে বিশদ পরিকল্পনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এনসিটিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়া, সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে না পারা এবং বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ- এসব প্রসঙ্গে নিয়ে আলোচনার জন্য গত রোববার পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং শিক্ষা বোর্ডের কর্তাব্যক্তিগণ এক দফা বৈঠকও করেছেন।
শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বানারিপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ক্লাস বন্ধের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষের লেখাপড়া পুষিয়ে দিতে সরকার সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান চালু করায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা হলেও উপকার হচ্ছে। বার্ষিক সিলেবাসের সবটা সম্পূর্ণ করা না গেলও হয়তোবা সহজতর পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহম্মদ ইনসান আলী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস খুলে দিলেও অভিবাবকগণ তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন বলে মনে হয় না কারণ তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন। এ অবস্থায় সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি এবং সংক্ষিপ্ত নম্বরের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে দেয়া যেতে পারে। অথবা মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭২ সালের মত অটো-প্রোমোশন দেয়া যেতে পারে। তবে প্রাইমারি সাটিফিকেট, জুনিয়র সার্টিফিকেট এবং সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট- এসব পাবলিক পরীক্ষা বাদ দেয়া হয়েতো সম্ভব হবে না।
ওদিকে, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কবে কমবে এ সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। তাই আমরা দুইটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে যদি স্কুল খোলে তাহলে চলতি শিক্ষাবর্ষকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।’ সেক্ষেত্রে পরের শিক্ষাবর্ষকে বিভিন্ন ধরনের ছুটি কমিয়ে ১০ মাসে নামিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে ও ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে ডিসেম্বরেও শিক্ষাবর্ষ শেষ করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত এটি নিশ্চিত হয় নি। কারণ আমরা জানিই না ডিসেম্বরের আগে এই মহামারি সংকট শেষ হবে কিনা! এমনটা হলে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা পরের বছর আয়োজন করতে হবে।’
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ অন্যান্য সময় অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের এক অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং তাদের প্রয়াজনীয় মানবিক ও অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, ইনস্টিটিউটসমূহ ও শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
করোনা ভাইরাসসৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে পরবর্তী ১০ দিনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক শিক্ষা-কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর পরে কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘অনির্ধারিত এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে ঈদের ছুটির পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদর প্রযুক্তিগত অবকাঠামা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষ অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে সভায় আলোচনা হয়েছে।’
সূত্র : পার্সটুডে
এবিএস

Comments are closed.