rockland bd

মাদক সেবন কি উপকারী হতে পারে?

0

ডয়েচে ভেলে, ঢাকা


মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করতে, সজাগ রাখতে মাদক বা ওষুধ খাওয়া উচিত কি? এর প্রবক্তরা ক্ষুদ্র পরিমাণে এমন পদার্থ সেবনের পরামর্শ দিলেও অনেক বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান৷ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এড়াতে তাঁরা এসব এড়িয়ে চলার পক্ষে৷
মার্কিন শিল্পপতি পল অস্টিন তাঁর আকাঙ্ক্ষিত সমাধান খুঁজে পেয়েছেন৷ এলএসডি মাইক্রোডোজ নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস কম নয়৷ পল বলেন, ‘‘মাইক্রোডোজ নেওয়ার ৪৫ মিনিট পর খুব ভালো বোধ করছি, সহজেই হাসি পাচ্ছে, বাইরের জগতের সঙ্গে আদান-প্রদানের ইচ্ছা বাড়ছে৷ লেখার সময় সহজেই আইডিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি৷ সব মিলিয়ে জীবনে অনেক কিছু সহজ হয়ে উঠেছে৷”
ক্ষুদ্র কৌটোয় এলএসডি – ৬ থেকে ২০ মাইক্রোগ্রাম৷ এটুকু খেলে নাকি মগজ চাঙা হয়৷ গটলিব ডুটভাইলার ইনস্টিটিউটে এক ভাষণে পল অস্টিন এমনটাই দাবি করলেন৷ সেটা কি শুধু অ্যামেরিকান হুজুগ? সম্ভবত নয়৷ কারণ, দর্শকদের একাংশ মাইক্রোডোজিংয়ের আইডিয়া মোটেই উড়িয়ে দিতে প্রস্তুত নয়৷
মগজকে যাঁরা বেশি কাজে লাগাতে চান, তাঁদের কাছে এমন রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্য কি সোনার মতো? মানুষ অবশ্য বেশ কিছুকাল ধরে মগজ তাজা করতে ট্যাবলেট খাচ্ছে৷


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউরোএনহ্যান্সার বা মগজের উন্নতি করে এমন ওষুধের যাত্রা শুরু হয়েছিল৷ জার্মান সৈন্যদের জন্য বড় আকারে অ্যাম্ফিটামিন উৎপাদন করা হয়৷ বাজারে তার নাম ছিল পেরভিটিন৷ মানুষকে আরো সজাগ ও দক্ষ করে তোলাই ছিল তার উদ্দেশ্য৷ বেসমারিক জনগণও সেই ওষুধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে৷ এমনকি টফির মধ্যে অ্যাম্ফিটামিন ভরে বিক্রি শুরু হয়৷
কঠিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে সত্তরের দশকে সুইজারল্যান্ডে অ্যাম্ফিটামিনকে অ্যানেস্থেশিয়া সংক্রান্ত আইনের আওতায় আনা হয়েছিল৷
আজ মস্তিষ্কের ডোপিং করতে চাইলে অসংখ্য ওষুধ পাওয়া যায়৷ অ্যাম্ফিটামিন ও এলএসডি মাইক্রোডোজ ছাড়াও বিটাব্লকার বা মডাফিনিল ট্যাবলেট রয়েছে, যা আসলে নিদ্রাহীনতা কাটাতে প্রয়োগ করা হয়৷ এছাড়া রিটালিন অত্যন্ত জনপ্রিয়৷
বরিস কুয়েডনো-র মতো সাইকো-ফার্মাকোলজিস্ট মনে করেন, এক শতাংশেরও কম মানুষ নিয়মিত এমন ওষুধ খান৷ কারণ, সেগুলির প্রভাব সম্পর্কে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন কোনো পদার্থ খেলে তার প্রভাবের মধ্যে সবসময়ে সংঘাত থেকে যায়৷ হয়তো আমার প্রেরণা, সজাগ থাকার ক্ষমতা বেড়ে যায়, অন্যদিকে আবার অন্য কিছু কগনিটিভ ক্ষমতার অবনতি ঘটে৷”


কারণ, নিউরোএনহ্যান্সার জাতীয় ওষুধ মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করে৷তারা নিউরোট্রান্সমিটারের চলাচল বদলে দেয়৷ স্নায়ুকোষগুলির মধ্যে স্পন্দনও প্রভাবিত হয়৷ নিউরোএনহ্যান্সারের প্রভাবের ফলে আরো বেশি সেমিওকেমিক্যাল সৃষ্টি হয়৷ এর ফলে মস্তিষ্কে কিছু ক্রিয়া বেড়ে যায় বটে, কিন্তু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়৷ বরিস কুয়েডনো বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এলএসডি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেবো৷ এমনকি মাইক্রোডোজেও নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়৷”
অর্থাৎ, মস্তিষ্কের জন্য আদর্শ রাসায়নিক পদার্থ এখনো স্বপ্নই থেকে গেছে৷ বরিস কুয়েডনোর মতো গবেষকরা তার বদলে এক কাপ কফি পান করার পরামর্শ দেন৷ এভাবেও টেকসই প্রক্রিয়ায় আমাদের কগনিটিভ ক্ষমতা বা বোধশক্তি বাড়তে পারে৷
বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.