rockland bd

পাপিয়ার ফ্ল্যাট বাড়ি ও হোটেল কক্ষে র‌্যাবের অভিযান

0


ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: রাজধানীতে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার দুটি বাড়ি ও তার ভাড়া করা পাঁচতারকা হোটেলের প্রেসিডেন্ট কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গতকাল রবিবার ৫৮.৪১ লাখ নগদ টাকাসহ অনেক কিছু জব্দ করেছে র‌্যাব।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী (৩৮) এবং তাদের দুজন ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবাকে (২২) শনিবার বেলা ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
এসময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২.১২ লাখ নগদ টাকা এবং বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমান জাল টাকা জব্দ করা হয়।
র‌্যাব-১–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া এবং তার স্বামী জানিয়েছেন যে তাদের রাজধানীর ইন্দিরা রোডে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তারা গত ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫৯ দিন একটি বিলাসবহুল হোটেলের প্রেসিডেন্ট কক্ষ ভাড়া নেন।
তিনি জানান, তারা ওই কক্ষের ভাড়া বাবদ প্রায় ৮১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন এবং ওই হোটেলের একটি বার পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রতিদিন তারা আড়াই লাখ টাকা মদের বিল পরিশোধ করতেন।
র‌্যাবের একটি দল রবিবার ভোর ৪টা থেকে প্রেসিডেন্ট কক্ষে ও দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় এবং একটি বিদেশি পিস্তলসহ দুটি ম্যাগজিন, ২০টি বুলেট, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮.৪১ লাখ টাকা নগদ, পাঁচটি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করে, যোগ করেন এ র‌্যাব কর্মকর্তা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে তা বুঝতে পেরে শনিবার পাপিয়া এবং তার স্বামীসহ দু’জন সহযোগী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল বুলবুল বলেন, পাপিয়া এবং সুমনের কোনো নির্দিষ্ট পেশা না থাকলেও তারা অস্ত্র, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে ঢাকা ও নরসিংদীর উভয় জায়গাতেই ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, এই দম্পতি নরসিংদী থেকে তরুণীদের ভালো চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংগ্রহ করত, কিন্তু তাদেরকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে বাধ্য করত। ‘কেউ অনৈতিক কাজ করতে না চাইলে তারা তাদের ওপর নির্যাতন চালাত।’
পাপিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাব-১ কমান্ডিং অফিসার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইতোমধ্যে যুব মহিলা লীগ পাপিয়াকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা এবং অর্থপাচার ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করেছে। খবর ইউএনবির।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.