rockland bd

সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে ও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ গানের সুর বাজানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এর আগে রাত ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শহীদ মিনারে পৌঁছালে কয়েকজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বিশিষ্টজনরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এরপর ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শহীদ মিনারে আসেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মেয়র শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা শহীদদের পরিবারের পক্ষ থেকেও বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত, ওআইসি প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। এরপর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। খবর পারস টুডের।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.