rockland bd

কুরআন প্রতিযোগিতায় জেতা ছাত্র এবার জিতল গীতার‌ ক্যুইজ প্রতিযোগিতা

0


বিদেশ ডেস্ক:‌ বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর:: সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জেরে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করতে চাইছে। দেশে হিংসার আবহাওয়া তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে তারা। কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকা মানুষ ভুলে গিয়েছে, মানবধর্মই সর্বধর্মের জনক। তা সে হিন্দু বা ইসলাম ধর্ম হোক কিংবা খ্রিস্টান ধর্মই হোক। তারই দৃষ্টান্ত তৈরি করল জয়পুরের এক ১৬ বছরের কিশোর। যে ধর্মগ্রন্থ হয়ত তার ধর্মের গোঁড়ারাই ছুঁয়ে দেখেননি, সেই ধর্মগ্রন্থ গুলে খেয়ে ফেলেছে এই মুসলিম কিশোর।
ভগবত গীতার ওপরে জয়পুরে একটি ক্যুইজের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল হরে কৃষ্ণ মিশন এবং অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন। ছ’‌মাস ধরে দুটি পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম পুরস্কার নিয়ে গেল মুসলিম আব্দুল কাগজি। সংস্কৃত শ্লোক তাঁর ঠোঁটস্থ। আর অন্যদিকে, হিন্দুধর্মের এমন বহু গোঁড়া পণ্ডিত রয়েছেন, যাঁদের সেই শ্লোকগুলি মুখস্থ থাকা তো দূরের কথা, সেগুলির অর্থও সম্ভবত জানেন না।
কীভাবে এই জয়পুরবাসী ৯ম শ্রেণির কিশোর গীতায় পাণ্ডিত্য অর্জন করল? প্রশ্নের উত্তরে সে জানাল, টিভিতে ‘‌লিট্‌ল কৃষ্ণ’‌ দেখতে দেখতে তাঁর প্রথম কৃষ্ণকে ভাল লাগতে শুরু করে। ছোট্ট কৃষ্ণের বুদ্ধি দেখে সে বড়ই অবাক হয়ে গিয়েছিল। আর তারপরেই ‌সে পড়ে ফেলল কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা একটি বই। আর তারপর থেকেই আধ্যাত্মিকতা নিয়ে বাবার ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেশ কিছু লেখাপত্র পড়তে থাকে সে। প্রতিযোগিতায় জেতার পর শুক্রবার সে প্রথমবার হরেকৃষ্ণ মন্দিরে পা রাখল। সেখানে গিয়ে সে জানতে পারল, যেই শ্লোক আওড়ানো হচ্ছে ওই মন্দিরে, তা বিখ্যাত এক মুসলিম কবি রাস খানের লেখা।
স্বামী সিদ্ধি স্বরূপ দাসা জানালেন, ‘‌ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক বার্তা যে সমানভাবেই সমস্ত ধর্মে রয়েছে, সে কাজটিই এতদিন ধরে আমরা করার চেষ্টা করেছি। আর আজ কাগজি নিজে এই কাজটি সহজ করে দিল।’ মুদির দোকানের মালিক আব্দুর কালিম, ছেলে আব্দুল কাগজির কীর্তিতে গর্বিত। তিনি জানালেন, এর আগে কোরান নিয়ে একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতাও সে জিতেছিল। আর এবার গীতার বিষয়েও তাঁর পাণ্ডিত্য দেখে বাবা আপ্লুত।‌ রাজ্যের মন্ত্রী প্রতাপ খাচরিয়াওয়াসের কাছ থেকে রবিবার সে পুরস্কার গ্রহণ করবে বলে জানা গিয়েছে। ‌‌খবর আজকাল পত্রিকা, কলকাতা।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.