rockland bd

খালেদা জিয়ার বন্দীদশার ২ বছর

0

হুইল চেয়ারে বেগম খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ (বাংলাটুডে) : সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বন্দীদশার দু’বছর পূর্ণ হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি অনিশ্চিত। আর গত দু’বছরে রাজপথে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তুলতেও সক্ষম হয়নি দলটি। সভা-সমাবেশ মানববন্ধন, গণঅনশন- এসব কর্মসূচিতে ঘুরপাক খাচ্ছে দলটি।
এ অবস্থায় দলের শীর্ষ নেতার মুক্তির দাবিতে গতকাল রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশেপাশে আরেক দফা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। আজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশি অনুমোদন নিয়ে জনসভার আয়োজন করেছে দলটি।
এ জনসভাকে সামনে রেখে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সভা সমাবেশ বা রাস্তায় আন্দোলন কিংবা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও বেগম জিয়ার মুক্তি মেলেনি। এবার নতুন আঙ্গিকে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। তাতে দলকে সার্বিকভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।

রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল

তবে বিএনপি’র আন্দোলন সক্ষমতাকে নিয়ে আবারো বিদ্রুপ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।ওদিকে গতকাল রাজধানীতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিনা ভোটের সরকার জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে এবং গণতন্ত্রকে তাদের দুশমন হিসেবে গণ্য করে দেশ থেকে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল ও মতকে উধাও করার মাধ্যমে একচ্ছত্র ও এক ব্যক্তির শাসন বলবৎ রাখতে চায়। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সাজানো মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিচারের নামে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন

এ প্রসঙ্গে, প্রবীণ আইনজীবী এবং বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১(১) ধারায় সরকার ইচ্ছা করলে যেকোনো দণ্ডিতের সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিতে পারে। বেগম জিয়ার ক্ষেত্রেও সে ধারা প্রয়োগ করে তাকে মুক্তি দেবার সুযোগ রয়েছে। এখানে কারো কোনো আবেদন করতে হয় না। এটা সরকার ইচ্ছা করলেই একক সিদ্ধান্তে করতে পারে। এরকম উদাহরণ রয়েছে। আমি আশাকরি, সরকার একজন ৭৩ বছর বয়সী অসুস্থ রাজনীতিবিদ বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে মানবিক আচরণ করবে।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার ‘নির্জন’ কারাগারে কারাবাসে রাখা হয়। কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি যেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে পাঁচটি দুর্নীতির মামলাসহ ৩১টি মামলা ঝুলছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।


নেতা-কর্মীদের ঢল বিএনপির সমাবেশে
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। আজ দুপুরে সমাবেশ শুরুর আগেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন। দুপুর ২ টায় কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দলের নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। সমাবেশ পরিচালনা করছেন বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। এর আগে দুপুর ১২টার পর থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন তারা। ধানের শীষের রেপ্লিকা, ফেস্টুন, খালেদা জিয়ার পোস্টারসহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার হাতে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।
সমাবেশের কারণে নয়া পল্টনের সামনের সড়কের একপাশ বন্ধ হয়ে যায়। অপর পাশের যান চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। যানচলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমাবেশ মঞ্চ থেকে দলের দায়িত্বশীল নেতারা বারবার কর্মী সমর্থকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সমাবেশ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছেন সমাবেশস্থলের আশপাশে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, মো. শাহজাহান ড. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবীব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতারা।

সূত্র : পার্সটুডে
এবিএস

Comments are closed.