rockland bd

বিশ্ব সমালোচনায় সু চি বা মিয়ানমারের কিছু যায় আসে না

0

বিদেশ, ইউএনবি


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর আচারণের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনলেও স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সু চি বা তার দেশের কিছু যায় আসে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিচার বহির্ভুতভাবে ১০জন রোহিঙ্গাকে হত্যার খবর প্রকাশ করায় গত সোমবারের শো-ট্রায়ালে রয়াটার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ডাদেশের পর বিশ্বে নতুন করে সমালোচনায় পড়লেও কিছু মনে করছে না দেশটি।
তবে এসব ব্যাপারে সু চির মনোভাব অস্পষ্ট। একজন গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ের পরেও তার অগণতান্ত্রিক আচারণ তার মূল আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সু চি ক্ষমতায় থাকলেও দেশটির সংবিধান অনুসারে তার ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগই কমই রয়েছে। কারণ অনেক ক্ষমতাই সামরিক বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামিরেটিটাস অধ্যাপক ডেভিডি স্টেইবার্ড গত জুলাইয়ে অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ লেখেন ‘অং সাং সু চি সামিরক বাহিনীর সাথে তার মতাদর্শের একটা ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা আনছেন। কারণ তার ভয় রয়েছে যে, দেশের মানুষের চাহিদার বিপরীতে আবারো সামরিক শাষণ কায়েম হতে পারে। দেশটিতে বর্তমান সংবিধানের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতিতে সামারিক ব্যবস্থায় চলে যাওয়া সম্ভব।
অন্যান্য পর্যবেক্ষণকারীরা আবার সু চির ওপর উদারতা না দেখিয়ে বলছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার মধ্যেই সু চির মনোভাবের স্পষ্টা দেখা যায়নি এবং সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশেগুলোর সাথেও ভালো ব্যবহার দেখাননি বরং সামরিক বাহিনীর কর্মকান্ডে অনেকটা ছাপাই গেয়েছেন।
ইয়াঙ্গুন ভিত্তিক ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইনস্টিটিউশনের একজন খিন জো উইন বলেন, মানুষ ভাবতে শুরু করেছে যে, অং সাং সু চি এবং সামরিক বাহিনী এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে একজন অন্যকে উৎখাত করে একক ক্ষমতায় যাবে।
রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সত্য প্রকাশে তাদের ভিত্তির কথা স্মরণ করে দিচ্ছে এবং সত্য প্রকাশ হলে তারা অস্বস্তিতে পড়বে।
গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী দ্বারা অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার উদার পরিচয় দিয়ে তাদের আশ্রয় দিলেও রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নানা রকম তালবাহানা করছে মিয়ানমার।

বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.