rockland bd

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্দেহে চার ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ, ১২ ঘন্টা পর মুক্তি

0

ঢাকা, বাংলাট্রুডে টুৃয়েন্টিফোর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলে ‘ইসলামি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে’ চারজন ছাত্রকে মারধরের পর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার ঘটনা ঘটেছে।
মারধরের শিকার হওয়া ছাত্রদের একজন এ জন্য সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে দায়ী করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ওই ঘটনার সময় উপস্থিত একজন ছাত্রও বিবিসিকে বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের দু’জন নেতা ওই চারজনকে হলের গেস্টরুমে ডেকে নেবার পর তাদের মারধর করা হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের হল শাখা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
মারধরের পর ওই ছাত্রদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং ১২ ঘন্টা শাহবাগ থানায় থাকার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, ‘হল কর্তৃপক্ষের অনুরোধ অনুযায়ী’ ওই চার ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দেবার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে ছাত্রদের মারধর করার কোন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান মি. রব্বানী।
সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মঙ্গলবার রাতে ঐ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন জানিয়েছেন, শিবিরকর্মী সন্দেহে রাত ১১টার দিকে দ্বিতীয় বর্ষের দুইজন ছাত্র মুকিম চৌধুরী এবং আফসার উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গেস্টরুমে ডেকে নেয় হল শাখা ছাত্রলীগের দু’জন নেতা।
পরে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সানোয়ার হোসেন এবং মিনহাজউদ্দীনকেও ডেকে নেয়া হয়।
অক্টোবর মাসে আবরার নামে একজন বুয়েট ছাত্র নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেলে তা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাদেরকে হলের বর্ধিত ভবনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে চড়-থাপ্পড় মারা হয়, পরে রড ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটানো হয়।
এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের অন্য নেতৃবৃন্দ এবং হলের আবাসিক শিক্ষকেরা এসে পৌঁছালে ছাত্রদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ছাত্রদের মারধর বা পেটানো হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি জানেন না, তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে হল প্রশাসন।
প্রায় ১২ ঘন্টা পর বিকেল চারটায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। শাহবাগ থানা থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় চার ছাত্রকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়।

দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুকিম চৌধুরীর মা ফরিদা বেগম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে সকালে ঢাকা এসে পৌছেছেন।
বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কাঁদছিলেন, বলছিলেন ছেলেকে একা ঢাকায় রেখে যেতে তিনি ভরসা পাচ্ছেন না।
“আমার ছেলের নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হইছে। এমন অবস্থায় আমি কেমন একা রেখে যাবো তাকে।” খবর বিবিসির।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর।

Comments are closed.