rockland bd

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহমদীয়া মসজিদ ঘিরে আবার উত্তেজনা

0


ঢাকা, ১৮ জানুয়ারী, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আহমদীয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি মসজিদ দখলের হুমকি আসার পর নামাজের আগে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মসজিদটি ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়।
আহমদীয়া মুসলিম জামাত বলছে, স্থানীয় দু’টি কওমী মাদাসার পক্ষ থেকে ‘তাহাফুজে খতমে নবুয়ত’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে জুম্মার নামাজের পর জমায়েত ডাকা হয়েছিল।
তারা আহমদীয় মুসলিমদের মসজিদটি দখলের হুমকি দিলেও পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার কারণে তারা সে চেষ্টা করেনি।
কওমী মাদ্রাসা দু’টির ফোরামের নেতারা অবশ্য দখলের হুমকি দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আহমদীয়া সম্প্রদায়ের এই মসজিদ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে।
আহমদীয়া মুসলিম জামাতের স্থানীয় নেতা মনজুর হোসেন অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার তাদের মসজিদে শিশুদের একটি অনুষ্ঠান চলার সময় হঠাৎ করে অসত্য গুজব ছড়িয়ে সেখানে হামলা করা হয়েছিল। এরপর স্থানীয় দু’টি কওমী মাদ্রাসা থেকে খতমে নবুয়তের ব্যানারে শুক্রবার মসজিদ দখলের হুমকি দেয়া হলে তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে আহমদীয়া মুসলিমদের মসজিদে পুলিশ-র‍্যাবের পাহারা বসানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে
তিনি জানিয়েছেন, জুম্মার নামাজের সময় তাদের মসজিদ ঘিরে গোটা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়া হুমকির কারণে আগে থেকেই তারা তাদের মসজিদের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিলেন।
মনজুর হোসেন বলেন, “গত ১৪ই জানুয়ারি আমাদের মসজিদে আক্রমণের পর থেকে আমরা আতংকগ্রস্ত ছিলাম। এরপর মসজিদ দখলের হুমকি আমাদের আরও উদ্বিগ্ন করেছিল। তবে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সেজন্য শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমাদের কাছের দু’টি কওমী মাদ্রাসায় অনেক জমায়েত করলেও তারা আর এদিকে আসে নাই।”
“এখন পুলিশের তৎপরতার কারণে মসজিদ দখল করতে পারে নাই। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে আবারও কর্মসূচি দিয়েছে। ফলে আমাদের ভয় থাকছেই।”
আহমদীয়া মুসলিম জামাতের মসজিদের দুই পাশে দু’টি কওমী মাদ্রাসা। ফলে সেখানে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে পুলিশ বলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেছেন, এলাকাটিতে দুই পক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করলেও তারা পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগ করছে। তবে কয়েকদিন ধরেই সেখানে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে এবং শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
“এখানে দুই পক্ষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে। তবে উত্তেজনার শুরু থেকে অর্থাৎ গত মঙ্গলবার থেকে আমরা এলাকায় পুলিশের পাহারা দিচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।”
পুলিশ কর্মকর্তা মি: হোসেন আরও বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহমদীয় মুসলিম জামাতের মসজিদ নিয়ে উত্তেজনা এবং আতংকের পরিবেশ এখন আর নেই বলেই তারা মনে করছেন। খবর বিবিসির।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.