rockland bd

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অব্যাহত দরপতনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা

0


ঢাকা, বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল মঙ্গলবারও বড় আকারের দরপতন অব্যাহত ছিলো। সোমবার সূচক ৮৮ পয়েন্ট কমার পর গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো সূচক কমেছে ৮৭.২৪ পয়েন্ট।
এই দরপতনে বিক্ষোভ দেখা দেয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।
এর আগে সপ্তাহখানেক ধরেই অব্যাহত ছিল দরপতনের এই ধারা।
অবশ্য বিশ্লেষক ও কোন কোন বিনিয়োগকারীর চোখে এই দরপতন আকস্মিক নয়। ২০১০ সালের পর থেকেই খুব ধীরে এই দরপতন হচ্ছিল যেটাকে তারা বলছেন ‘স্লো পয়জনিং’।
একজন নিয়মিত শেয়ার ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, তিনি কয়েকমাস আগে তার শেয়ারগুলো বিক্রি করে ফেলেছেন, তখনই লোকসান হয়েছিলো ১৭ লাখ টাকা। কিন্তু এখন বিক্রি করলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হতো তার। “আমার কাছে মনে হচ্ছে শেয়ার বাজারের ট্রেন্ডটা ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে”, বলছিলেন মি. রহমান।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত এক সপ্তাহ ধরে এই দরপতন হচ্ছে। গতকাল সূচক নেমে ৪১২৩ পয়েন্টে কমে আসে। আজ আরো কমবার পর পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪০৩৬।
২০১৫ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচক সর্বশেষ এত নিচে নেমেছিল। তখন সূচক ছিো ৪ হাজার ১২২ পয়েন্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং পূঁজি-বাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক শাহাদত হোসেন সিদ্দিক বলছিলেন, সূচক কমার পিছনে দুইটি কারণ কাজ করছে।
“প্রথমত এখন বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর দ্বিতীয় কারণ হল, এই মার্কেটের উপর মানুষের আস্থা চলে যাচ্ছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার কোন চেষ্টা করা হচ্ছে না”।
পূঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, “আজ পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে আশার কোন আলো দেখা যাচ্ছে না”।
তিনি বলছিলেন, “এই অবস্থা হওয়ার আগেই পলিসি সাপোর্ট দেয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশে পলিসি মেকিং-এর সার্কেলে অমনযোগিতার বিষয় আছে। বিদেশি বিনিয়োগ আনা বা রাখার ব্যাপারে তাদের সিরিয়াসনেস নেই”।
তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে পূঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া বিদেশী বিনিয়োগ বাজারে না থাকাটাকে আরেকটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজ দাম কমার শীর্ষে ছিলো এসএস স্টিল লিমিটেড, আলহাজ্ব টেক্সটাইল, গোল্ডেন হার্ভেস্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের।
বাংলাদেশে ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।
এবারের দরপতনের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করতে চায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।
এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে সরকার।

সেই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, এসইসি’র একজন নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।খবর ইউএনবির।

আস / বাংলাটুডে টুয়েন্টিফোর

Comments are closed.