rockland bd

ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ইস্যুতে এনবিআরকে পাশে চায়

0

বাজেটে শুল্ক, আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে বেশকিছু অসঙ্গতি নিয়ে সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের নেতারা রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে এসব ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিতে এনবিআরকে পাশে চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এসব ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে আলাদা তিনটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনবিআরের সিনিয়র সদস্য ফরিদ উদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শিগগিরই একটি সুপারিশ জমা দেবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভ্যাট ইস্যুতে আগামী বুধবার (৩১ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। ওই বৈঠকে এফবিসিসিআই ফের ভ্যাট ও অন্যান্য কর বিষয়ে তাদের দাবি তুলে ধরবেন।

সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ইস্যুটির এখনো কার্যকর কোনো সুরাহা হয়নি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় তাদের মধ্যকার অস্বস্তি কাটছে না। নতুন ভ্যাট আইনটির বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী সংশোধনের কোনো আশ্বাস মেলেনি। বরং বেশ কিছু খাতে ভ্যাটের হার বেড়েছে। বিস্তৃত হয়েছে ভ্যাটের আওতাও।

অন্যদিকে ১৪ হাজার টাকার প্যাকেজ ভ্যাট দ্বিগুণ হয়ে ২৮ হাজার টাকা হয়েছে। এর বাইরে হাওয়াই চপ্পল, রুটি, বিস্কুট, কেক গামছাসহ গরিবের ব্যবহার্য বেশকিছু পণ্যে ভ্যাট বসেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এসব ইস্যু সমাধানের সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এখন আর এনবিআর-এর হাতে নেই।

এসব বড় ইস্যুতে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কার্যত এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে বলে মনে করেন তারা। এ অবস্থায় এনবিআর যদি ব্যবসায়ীদের এসব দাবির বিষয়ে নমনীয় মনোভাব দেখায় কিংবা যৌক্তিক দাবিতে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকে – সেক্ষেত্রে একটি ভালো সমাধান আসতে পারে বলে মনে করেন তারা।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাট ২৮ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পূর্বের ন্যায় ১৪ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তবে এর উপর প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্যাকেজ ভ্যাটকে নতুন ভ্যাট আইনে স্থায়ীভাবে আনার দাবিও জানিয়েছেন।

এর বাইরে টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) সীমা ৮০ লাখ টাকার স্থলে ৫ কোটি টাকা করার দাবিও জানিয়েছেন। বর্তমানে ৩৫ লাখ টাকা থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে। আর ৮০ লাখ টাকার উপরে টার্নওভারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ব্যবসায়ী নেতারা ভ্যাট ইস্যুর তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে আগামী সে্বেম্বর থেকে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়টিও এনবিআর চেয়ারম্যানকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান তাদের আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেই সঙ্গে বাজেটে নতুন করে ভ্যাটের আওতায় আসা স্বল্পমূল্যের বিভিন্ন পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাবের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এস এ কাদের কিরন। ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি বছর প্যাকেজ ভ্যাট নিয়ে দরাদরি (বারগেনিং) করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা চাই প্যাকেজ ভ্যাট আইনে আনা হোক। ১৪ হাজার টাকার পর প্রতি বছর এটি ২০ শতাংশ হারে বাড়ানোরও প্রস্তাব আমাদের। টার্নওভার ভ্যাটের সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করাও আমাদের প্রস্তাব। এছাড়া রুটি বিস্কুট, হাওয়াই চপ্পল, গামছা জাতীয় পণ্যের উত্পাদক ও ভোক্তা উভয়েই গরীব। তাদের যেন ভ্যাট থেকে রেহাই দেওয়া হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ভ্যাট নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আসা দরকার। আমরা আশা করছি, ব্যবসায়ী ও এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ভালো সমাধানের সূচনা হবে। এছাড়া আগামী ৩১ আগস্ট আমরা অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করব।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক বিষয়ে আলাদা তিনটি ওয়ার্কিং কমিটি কাজ করবে। এর ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত বিষয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভ্যাট ইস্যুতে ব্যবসায়ীরা আমাদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী অক্টোবর থেকে তারা দেশব্যাপী ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এছাড়া আমাদের অনলাইন প্রকল্পেও সহায়তা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত বাজেটে অর্থমন্ত্রী নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে বেশকিছু খাতে ভ্যাটের হার ও আওতা বাড়ানো হয়েছে। প্যাকেজ ভ্যাটও দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে আয়কর ও ভ্যাট বিষয়েও বেশকিছু আপত্তি রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

বাজেট ঘোষণার পর এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেছিলেন, এমন জটিল বাজেট তিনি এর আগে আর দেখেননি। সব মিলিয়ে বাজেটের বেশকিছু বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে।

Comments are closed.