rockland bd

আমরা ভোট ডাকাতি করি না : প্রধানমন্ত্রী

0

ডেস্ক প্রতিবেদন, ঢাকা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রবিবার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই… আমরা ভোট ডাকাতি করি না।’

নেপালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমস্টেক সম্মেলনে দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। যদি জনগণ ভোট দেয়, আমরা আবারো ক্ষমতায় আসবো, অন্যথায় নয়। অনেকবার এটা বলেছি, যা বলছি বুঝেই বলছি।’
আগামী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ আটকে রাখতে পারবে না। নির্বাচন বানচাল করার সামর্থ্য কারো নেই।
বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কোনো আপোষ মীমাংসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকারের কিছুই করার নেই। তিনি (খালেদা) যদি মুক্তি চান, তাহলে কোর্টের মাধ্যমে যেতে হবে। দ্রুত চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
গত শনিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপি নেতারা।
“একটা সরকার থেকে আরেকটা সরকারের যে ট্রানজিট পিরিয়ড সেসময় যাতে কোন ফাঁক না থাকে সেজন্যেই নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর খালেদা জিয়াকে তো আমি গ্রেফতার করিনি। তাদের নেত্রী বন্দী হয়ে আছে তাহলে তারা আন্দোলন করুক। তারা আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভালো কথা। এখন বলছে নির্বাচন করবে না। তারা কী করবে না করবে এটা তাদের সিদ্ধান্ত।”
“কে নির্বাচন করবে কে করবে না… এখানে বাধা দেয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেয়ারও কিছু নেই,” বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, “খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওদের সাথে আর আলোচনা নয়। আমি অন্তত ওদের সাথে বসবো না। আর কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেন। ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি। আমার কিছুই আসে যায় না।”
এদিকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ ও ছবি দিয়ে মিয়ানমার অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে। তারা নিজেরাই নিজেদের সম্মানটা খারাপ করেছে।
বাংলাদেশে ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত একই রকমের গুজব ছড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো তারা (মিয়ানমার) কী বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে শিখেছে?’
এসময় রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে দুই দেশের প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের সময় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হাসিনাকে বলেছেন, যারা মিয়ানমারে ফিরতে চায়, তাদের নেয়ার জন্য মিয়ানমার প্রস্তুত রয়েছে।
‘প্রতিবেশী দেশেগুলোর সাথে যুদ্ধ চাই না’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার কখনোই কিছু অস্বীকার করেনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা কিছুই করেনি (প্রত্যাবাসনের জন্য)।’
গত বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে নেপাল যান প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে শুক্রবার দেশে ফেরেন তিনি।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.