rockland bd

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

0

ডেস্ক রিপোর্ট, ১০ নভেম্বর ২০১৯ (বাংলাটুডে) : আজ রোববার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ১৪৪১ বছর আগে ১২ই রবিউল আউয়াল আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্বের বিস্ময়, নবী ও রাসুলগণের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ, বিশ্বনবী হজরত আহমাদ মুজতবা মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শেষ ২৩ বছর নবুয়তের দায়িত্ব পালন শেষে আবার এ মাসেরই ১২ তারিখে ৬৩ বছর বয়সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন তিনি। তাই মুসলিম উম্মাহ্‌র জন্য আজকের এ দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি শোকের।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা বাণী দিয়েছেন।
বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) ইতিহাসের এক অতুলনীয় আদর্শ। পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে শায়িত আছেন ইসলামকে পূর্ণতা দানকারী এই মহামানব। প্রতিদিন লাখো মুসলমান দরুদ ও সালাম পেশ করেন তাঁর রওজায়। নামাজ ও নামাজের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা প্রতিনিয়ত দরুদ পাঠ করেন তাঁর উদ্দেশ্যে।
যাঁর প্রশংসায় ভিন্ন ধর্মের মানুষেরা পর্যন্ত পঞ্চমুখ; কাফির–মুশরিক, জানের দুশমনরাও যাঁকে ‘আল আমিন’ তথা মহাসত্যবাদী বা পরম বিশ্বাসী আখ্যায় আখ্যায়িত করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি; যাঁর আবির্ভাবে কিসরা ও কাইজারের গগনচুম্বী রাজপ্রাসাদ ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে; পারস্যের অনির্বাণ অগ্নিকুল চিরনির্বাপিত হয়; তাঁর সেই শুভাগমনকে বিশ্ববিবেক ক্ষণিকের তরেও ভুলতে পারে না। বছরের ৩৬৫ দিনও যদি তাঁর পবিত্র মহামিলাদ বা জন্ম স্মরণ করা হয়, তথাপি রোজ কিয়ামত পর্যন্ত এর প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না। তাই তো সারা দুনিয়া প্রতিমুহূর্তে গাইছে: ‘সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা’।
বালাগাল উলা বি কামা–লি হি, কাশাফাদ দুজা বি জামা-লি হি; হাছুনাত জামিউ খিছ-লি হি, সাল্লু আলাইহি ওয়া আ-লি হি। ‘সবার ওপরে আসন যাঁর, তাঁর রূপের ঝলকে কেটেছে আঁধার; সকল কিছুই সুন্দর তাঁর; দরুদ তাঁকে ও তাঁর পরিবার।’
জাহেলিয়ার যুগে অনাচার-পাপাচারে নিমজ্জিত আরবে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের মডেল উপস্থাপনের এক মহান দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ সা:। তাঁর মাধ্যমেই ইসলাম মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তখন অশান্ত আরবে শান্তির সুবাতাস বয়ে যায়। পরবর্তীতে ক্রমেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসে প্রায় পুরো বিশ্ব।
সারা বিশ্বে মহানবীর জীবন ও আদর্শ স্মরণের মধ্য দিয়ে পালিত হয় ১২ রবিউল আউয়াল।
নবী মুহাম্মদ সা:-কে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য। তা ছিল দুনিয়ায় প্রচলিত সব বিধিবিধান ও ব্যবস্থার ওপরে আল্লাহর দেয়া দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে রাষ্ট্র ও সমাজে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী দুনিয়াকে পরিচালিত করে দুনিয়াকে শান্তিময় করা, পরকালে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে চিরসুখের জান্নাত লাভের জন্য পাথেয় অর্জন করা। ৪০ বছর বয়সে নবুয়তের দায়িত্ব পান রাসূলে পাক সা:। ২৩ বছরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান। ওহির মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশনায় নানা বাধাবিঘ্ন-অত্যাচার-জুলুমের বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দ্বীনকে তিনি বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। তাঁর জীবদ্দশায়ই ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অহি নাজিল হয়।
মানুষের কল্যাণ সাধনই ছিল রাসূল সা:-এর সব কাজের লক্ষ্য। মানুষের কল্যাণচিন্তায় পবিত্র মক্কার হেরা পাহাড়ের গুহায় ধ্যানরত অবস্থায়ই তার ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। ৪০ বছর বয়সে সেই বাণী প্রাপ্তির মাধ্যমেই নবুয়ত লাভ করেন তিনি। তাঁর ওপর নাজিলকৃত ওহির সমষ্টিই ইসলামের মহাগ্রন্থ আল কুরআন।
ইসলামের প্রচার মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত, মদিনা সনদ তৈরি, বদর যুদ্ধে বিজয়, ওহুদের যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা, হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়সহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসলামের পরিপূর্ণতা আনতে সক্ষম হন তিনি। রাসূলে পাক সা:-এর জীবনালেখ্য থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় ফুটে ওঠে।
মহানবী সা: ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তিনি তখনকার আরবে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন, তার নজির পৃথিবীতে নেই। তিনি ধর্মের নামে অনাচার, ব্যভিচার ও কুসংস্কারের অবসান ঘটিয়ে সুস্থ-সুন্দর একটি মানবিক ব্যবস্থা মানবজাতিকে উপহার দেন। সমাজে ন্যায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে সংস্কার করেন, তা ছিল অনন্য-অসাধারণ।
তিনি সব নাগরিকের সমান অধিকার, বাকস্বাধীনতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদকে হারাম করে মুনাফাভিত্তিক ইসলামি অর্থনীতি চালু করেন। ধনীদের সম্পত্তিতে গরিবের অধিকার আছে ঘোষণা দিয়ে যাকাতের বিধান দেন। তিনি নারী-পুরুষ সবার জন্য জ্ঞান অর্জনকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা দেন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। দাসদের সামাজিক মর্যাদা প্রদান করেন। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে মজুরি প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবী সা:-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামের বিধান আল কুরআন এত বছর পরও অবিকৃত অক্ষত। ইসলামের অনুসারী বিশ্ব মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে গতকাল শনিবার থেকে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। । পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে জগনে জুলুস (ধর্মীয় র‌্যালি) করবে বিভিন্ন সংগঠন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রঙ্গিন ও কালেমা খচিত পতাকা দিয়ে শোভিত করা হয়েছে।

এবিএস

Comments are closed.