rockland bd

ভৈরবের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা

0

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরাই কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে তাদের রাজনৈতিক খোলশ পাল্টিয়ে স্বংয় আওয়ামী লীগেরই নি:স্বার্থ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের কুক্ষিগত করে রেখেছে দলের ভিতরে ও বাইরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর বিগত ১০ বছরে দলে অনুপ্রবেশ ঘটে এসব বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও জাতীয় পার্টির পদধারী নেতাকর্মীদের। তারা বর্তমানে ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তাঁর অঙ্গ-সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রহস্যজনক কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে পদ পাওয়ায় নিজ দল থেকে পদ বঞ্চিত হয়েছে আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধীরাই আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করায় বেড়েছে কোন্দল এবং রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বর্তমানে হাইকমান্ডের নির্দেশনা রয়েছে অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে আসা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের পর থেকেই দলের বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলভারি করার প্রবণতা। কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের পথ ধরে স্থানীয়ভাবেও নিজ বলয় ভারি করতে ‘ফুলের তোড়ায়’ বরণ করে নেয়া হয় বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাদের। তাদেরকে দেয়া হয় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো তারাই মুলত দল বদল করে আওয়ামী লীগে এসে রাতারাতি পুনর্বাসিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলের নীতি নিধার্রকের আসনেও ঠাঁই হয়েছে তাদের। অন্তত শতাধিক চিহ্নিত ও পদধারী বিএনপি জামায়াত-শিবির ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী বর্তমানে ভৈরব উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগ ও ইউনিয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবি পেয়েছেন। আর তারাই এখন চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার সর্বত্র। লুটপাট ও নানা অপকমের্র মাধ্যমে সুনাম নষ্ট ও কলঙ্কিত করছেন স্বংয় আওয়ামী লীগকেই। বিএনপি জামায়াতের সুবিধাবাধীরা এখন খোলস পাল্টিয়ে এখন আওয়ামী লীগের মুখোশ পড়েছেন। যাদেরকে সবাই এখন আওয়ামী লীগের কাউয়া ও হাইব্রিড নামে ডাকেন।
জানাগেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গত দুইমাস আগেই বিভিন্ন দল থেকে আসা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ কারীদের তালিকাও করে জমা দিয়েছেন। অপরদিকে জেলা-উপজেলার নেতারা কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ কারীদের কোনো তালিকা জমা দেননি বলে সূত্রে জানাগেছে। ভৈরবে উপজেলায় যারা বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই গুরত্বপূর্ণ পদ-পদবী পয়েছেন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে অনুপ্রবেশ কারীদের আংশিক তুলে ধরা হলো।
ভৈরব পৌর বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ও চারদলীয় ঐক্যজোটের ভৈরব উপজেলার সমন্বয়ক সাবেক পৌর কমিশনার মাহফুজুর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদ পেয়েছেন। অন্য দিকে ভৈরব পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠানিক সম্পাদক হাজী মোমেন মিয়া বর্তমানে ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠানিক সম্পাদক উসমান মিয়া (জুয়া উসমান হিসেবে পরিচিত) বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামীললীগের সদস্য। ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের মৃত হাজী ময়েজ উদ্দিন খাঁনের ছেলে ডাক্তার মিজানুর রহমান কবির উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। তবে তাঁর পরিবারের লোকজন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পক্ষে বিপক্ষে মত রয়েছে। কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়ার জয়নাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বর্তমানে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক। এছাড়াও পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের তাঁতারকান্দির বিএনপির ডোনার মরহুম আমিন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম রানা ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদ আছেন। জাতীয় যুব সংহতির ভৈরব পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: মজিবুর রহমান ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ডেলিকেটর, বিএনপি নেতা দন্ত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান হাবিব বর্তমানে পৌর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ ও সদস্য বাছির মিয়া বর্তমানে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন। তবে এখনো ওই কমিটির অনুমোদন হয়নি বলে জানাগেছে। এছাড়াও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন।
অপরদিকে গজারিয়া ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের যুবদল নেতা মো: আব্দুল্লাহ বর্তমানে ২নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং তাতালচরের বিএনপি নেতা মো: আগুর মিয়া ৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ পেয়েছেন এবং শ্রীনগর পূর্বপাড়ার বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন বর্তমানে শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন সেন্টু বর্তমানে শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠানিক সম্পাদক, বিএনপি সমর্থক ছিলেন তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি আতাউর রহমান আতর। বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত হাজী মো: ফুল মিয়া (বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা), শ্রীনগর উত্তরপাড়ার মোকশেদ আলী মেম্বার, তেয়ারীচরের জাকির মেম্বার, জাফরনগর গ্রামের আলকাছ মেম্বার, ভবানীপুরের সাবেক মেম্বার জালাল উদ্দিন, সোলাইমান পুরের জমির হোসেন, কামারকান্দার সাবেক মেম্বার জাহের মিয়া, শ্রীনগর পূর্বপাড়ার সাবেক মেম্বার রমজান আলী, বাউশমারার মো: কফিল উদ্দিন। এসকল তথ্য একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তী পর্বে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড নেতাদের পরিচয়সহ যাবতীয় তথ্যাদি উপস্থাপন করা হবে।
রাকিব/বাংলাটুডে

 

Comments are closed.