rockland bd

খালেদার মুক্তি দাবি ও বৃহত্তর ঐক্যের ডাক বিএনপির

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক ও খালেডা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ডাক দিয়ে বলেছেন, ‘এখন আর বিভেদ নয়, গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমাদের বুকের ওপর যে দুঃশাসন চেপে বসেছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।’
বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের এখন বিএনপি ভীতি কাজ করছে। এই ভীতি থেকে বাঁচতে ইভিএম নিয়ে আসছে।’
আওয়ামী লীগ একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বুকে সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’ এসময় তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরেছে দলটি। দাবিগুলো হলো নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। দলটি বলছে, এই দাবিগুলো মানা না হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ নির্বাচন হতে দেবে না।
দেশে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দিতে চাইছে। রায়ের আগে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন এ মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। তাহলে কি তাঁরা আগেই রায় লিখে রেখেছেন? মনে রাখবেন, কোনো ষড়যন্ত্রের রায় দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’ এ সময় সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় আপনাদের নিতে হবে। দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের কথা পরিষ্কার, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে।’

মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচনে যাবে বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় এই মন্তব্য করেছেন নেতারা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভা শুরু হওয়ার পর থেকেই বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা তাদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে বিএনপি।
এদিকে জনসভা শুরুর পর যখন নেতারা বক্তব্য দেন ঠিক এ সময় বিএনপির দুটি পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা একে অপরের দিকে পানির বোতল, ব্যানার, ফেস্টুন ছুড়ে মারে।
সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘এখন আমাদের আন্দোলন হচ্ছে সিইসি নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। কারণ শেখ হাসিনা সরকার যা বলছে, যা করতে চাইছে হুদা কমিশন সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৬ সালের জনতার মঞ্চের নেতা নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে, দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে।’
যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’
‘আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেত্রীকে মুক্ত করে আনবে’, যোগ করেন খোকন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আজ মিথ্যা মামলায় কারাগারে আমাদের নেত্রী। আমরা সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। না হলে এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়া কারাগারে নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কারাগারে। তাকে কারাগারে আটকে রেখে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে সরকার। কিন্তু আমরা সরকারকে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাব।’
ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাদরু বলেন, ‘আজ আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য আনন্দ নয়, বিষাদের। কারণ, আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে। আজ আমরা শপথ নিয়েছি, খালেদা জিয়াকে এই অবৈধ সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করার।’
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী। অবৈধ সরকার অন্যয়ভাবে তাকে জেলে আটকে রেখেছে। আমরা তাঁকে কারাগারে রেখে আজ আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি।’
নীরব সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে। তার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাব।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে এ অবৈধ সরকার। তারা চায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আবারও একটা পাতানো নির্বাচন করতে। কিন্তু এ দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দিবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটি প্রতিহত করা হবে। আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এ ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’
মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে। আর সেই নির্বাচন হবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তাঁকে কারাগরে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেশে হতে দেওয়া হবে না।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারাদেশে অবৈধ সরকারের পতনের আওয়াজ উঠেছে। তিনি বলেন, সরকারের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে গেছে; কিন্তু এই অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা টের পাচ্ছে না। আকাশে-বাতাসে, বৃক্ষে, বৃক্ষে, পাতায়, পাতায় পতনের আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জনকল্যাণে কাজ করেছেন, এখানে একটু সংশোধন আছে। তিনি জনগনের কল্যাণে নয়, আওয়ামী লীগের কল্যাণে কাজ করেন। তার জনগণকে প্রয়োজন নাই, তার প্রয়োজন ক্ষমতা। কারণ ক্ষমতায় থাকলে পদ্মা সেতুর টাকা লুট করা যায়, ব্যাংক লুট করা যায়, রিজার্ভ লুট করা যায়, সোনা লুট করা যায়, কয়লা, পাথর লুট করা যায়।’
এসময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। তাকে মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ইভিএম মানিনা, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর ছাড়াও পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.