rockland bd

পঞ্চগড়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটালেন ‘সরকারি গাড়িচালক’

0

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

গাড়িচালকের মারধরের শিকার জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলাকালে জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারীকে পিটিয়ে আহত করেছে জেলা শিক্ষা অফিসের গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রশিক্ষণরত শিক্ষকরা গাড়িচালক বাবলাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবলাকে থানায় নিয়ে আসে। আহত ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষকরা জানান, জেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে পঞ্চগড় জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ‘সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন’ শীর্ষক ৬দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার থেকে। বেলা দেড়টার দিকে প্রশিক্ষণ বিরতির সময় জেলা শিক্ষা অফিসের গাড়ি চালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা স্কুল মাঠে এসে জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলামকে মাঠে ডেকে আনেন। কেন তাকে খাবার কেনার দায়িত্ব দেয়া হয়নি এ নিয়ে জবাব চান। এ সময় বাবলা খাবারের মান খুব খারাপ বলে দাবি করে চড়াও হন আমিনুল ইসলামের ওপর। এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করেন শিক্ষা কর্মকর্তাকে। এ সময় তার টি-শার্টও ছিঁড়ে যায়।
জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুরে গাড়ি চালক বাবলা বিদ্যালয় মাঠে আমাকে ডেকে নিয়ে তাকে খাবার কেনার দায়িত্ব না দেয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় দুয়েক কথায় তিনি আমার ওপর ওপর চড়াও হন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি বছর শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন ড্রাইভার বাবলা। খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্নভাবে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করতেন। এবারও ২০০ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আমাকে তিনি ১৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বলেন। আমি তার কথা শুনিনি। সবমিলিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার উপর হামলা করেন।
তবে পঞ্চগড় সদর থানা হাজতে থাকা গাড়ি চালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই কর্মকর্তাকে মারধর করিনি। বরং তিনিই আমাকে মারধর করে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। আমি শুধু তাকে বলেছিলাম সব আপনি একা একাই করছেন। খাবার কেনার কমিটি আছে তাদের অন্তত জানান। এ কথা বলার পরই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দু’জেেনর মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, আমার সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। বাবলা আমার কথাও শোনেনি। ঘটনার পর বিষয়টি আমি সাথে সাথেই জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অ লের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করতে বলেছি। তা পেলেই ওই গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাকিব/বাংলাটুডে

Comments are closed.