rockland bd

আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল বুয়েট

0

হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন মিছিলে

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর (বাংলাটুডে) : ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাস। দ্রুততম সময়ের খুনীদের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ৭ দফা দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জড়ো হন। সাড়ে ১০টার দিকে তারা সাত দফা দাবির কথা জানিয়ে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহীদ মিনার হয়ে শেরে বাংলা হলের ভেতরে প্রদক্ষিণ করে আহসান উল্লাহ হল, কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনের চত্বর ঘুরে শহীদ মিনারে আসে।
এসময় আবরার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। মিছিল থেকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি বলা হয় ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’। এছাড়াও বিকেল পাঁচটার মধ্যে উপাচার্য (ভিসি) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বলেন, আদায় না হলে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

এদিকে, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
বেলা ১১টার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নেবাণে জর্জরিত করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা তার কাছে জানতে চান, রাত ২টার সময় হলে পুলিশ ঢুকল কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, সেটা হলের প্রভোস্টকে জিজ্ঞেস করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ‘ভুয়া, ভুয়া, পদত্যাগ, পদত্যাগ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ছাত্রদের তোপের মুখে এক সময় পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেন।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমার মনে হয় না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির কোনো প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। বুয়েটেও নিষিদ্ধ করা উচিত।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান

কবে নিষিদ্ধ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে বসে লিখে দিলে কিংবা বলে দিলে হয়ে যাবে না।
তবে ভিসি মহোদয়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে, বুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ বলেছেন, অতীতে যেসব বেআইনি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। তারই খেসারত হিসেবে আজকের এই হত্যাকাণ্ড। আগের ঘটনার কোনো ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না। শিক্ষক সমিতির সদস্যরা গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। তারপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষক সমিতি ছাত্রদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত। এটি যৌক্তিক বলে মনে করে।
সাত দফা দাবিগুলো হলো :
১.খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি;
২.৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার;
৩.দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি;
৪.বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তার জবাব সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে দিতে হবে এবং ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তার কারণ বিকেল ৫টার তাকে দিতে হবে;
৬.আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে;
৭. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে এবং মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
এর আগে সোমবার (৭ অক্টোবর) চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজার পর বিক্ষোভ শেষে আন্দোলন করার ঘোষণা দেন তারা।

আবরার ফাহাদের মরদেহ

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। এই ঘটনায় গতকাল নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটুসহ ৯ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এবিএস

Comments are closed.