rockland bd

ঈদযাত্রায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ

0

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি


নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন টিকিট যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে অপেক্ষা করেও মিলছে না সৈয়দপুর-ঢাকা রুটের একটি টিকিটও। ঈদ স্পেশাল ট্রেন কিংবা অতিরিক্ত বগি সংযোজন না করায় আসন সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহে চরম বিপাকে পড়েছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী রেলপথে বেশ কয়েকটি আন্ত:নগর ও লোকাল ট্রেন চলাচল করলেও দেশের সর্বউত্তরের নীলফামারীর ডোমারের চিলাহাটি থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি । সরেজমিনে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে পুরুষ ও মহিলাদের দীর্ঘ লাইন। সকাল ৮টার পরপরই টিকিট কাউন্টার খুলে টিকিট দেওয়া শুরু হয়। টিকিট কাউন্টার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যে বলা হচ্ছে ঢাকার নীলসাগর ট্রেনের টিকিট শেষ। এমতাবস্থায় যাত্রীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হামেশাই ঘটছে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কালোবাজারে আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট শোভন চেয়ার শ্রেণির ৪৫৫ টাকার টিকিট ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা এবং এসি চেয়ার স্নিগ্ধা শ্রেণির ৮৭০ টাকার টিকিট ২০০০ টাকা, এসি বাথ ১৬১০ টাকার টিকিট ৩৫০০-৪৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। গত ঈদুল ফিতরে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের এক সদস্যকে আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনের টিকিটসহ হাতেনাতে আটক করে জিআরপি পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে তার। কিন্তু এরপরও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হয়নি।
সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশনের জন্য নীলসাগর ট্রেনের চেয়ার (শোভন) ১২০টি, এসি ¯স্নিগ্ধা চেয়ার ২৫টি, নন-এসি বার্থ ৬টি এবং এসি বার্থ ১০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এসবের মধ্যে আবার কয়েকটি ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শওকত আলী বলেন, প্রতি ঈদেই এই স্টেশনে টিকিটের ব্যাপক চাহিদা থাকে। বিশেষ করে নীলসাগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই স্টেশনে নীলসাগর ট্রেনের আসন বরাদ্দ এতোই কম যে যাত্রীদের চাহিদা মতো টিকিট সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে করে আমাদেরকে যাত্রীদের নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি উৎসবে আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করলেই অনেক যাত্রীই টিকিট পেত। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.