rockland bd

মহাদেবপুর ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো মাঠে হাঁটু পানি : কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না

0

থৈ থৈ করছে পানি। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো মাঠ

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি, ২৫ সেপ্টেম্বর (বাংলাটুডে) : থৈ থৈ করছে হাঁটু পানি। দেখলে বিশ্বাসই হবে না যে এটাই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো মাঠ। সাকিব, তামিম, মুশফিক, রুবেল, সৌম্যরা যখন দেশ মাতিয়ে রাখছেন তখন বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে ডুবে থাকে এ মাঠ। স্যাঁতসেঁতে মাঠে নিয়মিত খেলা কিংবা অনুশীলন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই খেলোয়াড়দের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। নিয়মিত খেলতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই।
ঐতিহাসিক এ মাঠে ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবলসহ উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পানি জমে থাকায় এ বছর “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনূর্ধ্ব-১৭) ২০১৯” এর চূড়ান্ত খেলাসহ বিভিন্ন মেস ডাক বাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সমস্ত পানি নেমে আসে মাঠে। বন্ধ হয়ে যায় সব খেলা, ফলে ক্রীড়ামোদিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
উপজেলা শহরের একমাত্র মাঠটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অনাদর, অবহেলা আর চোখের পানিতে দীর্ঘদিন ভাসছে। উপজেলার মধ্যে এত বড় জনগুরুত্বপূর্ণ মাঠ বিরল। মাঠটি অনেক ঐতিহাসিক স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, একাধিক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদের অনেক সদস্যসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতার পদার্পণ ঘটেছে এই মাঠে। উপজেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এ ছাড়া বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন মেলা, বড় ধরনের সভা, সমাবেশ ও নিয়মিত সব ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিশাল এ মাঠটি যেন অভিভাবক শূন্য। এই মাঠে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন না থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে। আর বর্ষা মৌসুমে থাকে হাঁটু পানি, যা মাছ ও ধান চাষের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, মাঠ সংলগ্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল থাকায় প্রতিদিন শত শত ছাত্র-ছাত্রীর সমাগোম হয় এ মাঠে। হাঁটু পানিতে ডুবে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা করতে না পারায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সচেতনদের মতে ‘যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এর হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। খেলাধুলা চর্চায় যুব সমাজ ব্যস্ত থাকলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। যত বেশি ক্রীড়ার চর্চা হবে তত বেশি যুব সমাজ মাদক থেকে দুরে সরে যাবে। যে জাতি খেলাধুলায় যত উন্নত তারা পৃথিবীতে তত বেশি বিকশিত। খেলাধুলা যুব সমাজকে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে সুন্দর মানস গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরে খেলার মাঠের স্বল্পতা রয়েছে। যে ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো মাঠটি রয়েছে সেখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে মানববন্ধন হয়েছিল। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকলেও মাঠের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। ক্রীড়ামোদিদের দাবি মাঠটি রক্ষার জন্য পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। যাতে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে না যায় এবং শিক্ষার্থীরা সারা বছর খেলাধুলা করতে পারে। এছাড়া আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য আরো একটি ভাল মাঠের প্রয়োজন মহাদেবপুরবাসীর।
মাঠের খেলোয়াড় মুরাদ জানান, মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল খেলা হতো। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় তারা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারে না। এক পাশে অল্প একটু শুকনো জায়গা আছে, সেখানে খেলতে হয় তাদের। একই তথ্য জানায় নাজমুল, নওশাদ, মুরাদ, জুয়েল ও দিপু।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বক্তব্য গ্রহণের জন্য একাধীকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি। পানি নিষ্কাশন ও মাঠ উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার হাজারো খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থী।

ইউসুফ আলী সুমন /এবিএস

Comments are closed.