rockland bd

যেসব রোগের ওষুধ খেজুর

0


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর (বাংলাটুডে) :
খেজুর খুবই পুষ্টিকর ফল। খেজুরে রয়েছে ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক।
খেজুর একজন সুস্থ মানুষের শরীরে আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১ ভাগই পূরণ করে। তাই প্রতিদিন খেতে পারেন খেজুর।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের অনেকটাই খেজুর থেকে আসে।এছাড়া ডায়াবেটিস থাকলে প্রচলিত খেজুরের বদলে শুকনো খেজুরকে ডায়েটে রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।
খেজুরের পুষ্টিগুণ
সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল। যা ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়।খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয় চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি। যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
আসুন জেনে নেই খেজুর খাওয়ার উপকারিতা।
১. শরীর গরম রাখে:
খেজুরে বিপুল পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং ম্যাগেনশিয়াম থাকার কারণে এটি শরীর গরম রাখতে খুব সাহায্য করে। সেই কারণেই তো শীতকালে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।
২. ঠান্ডা কমায় :
ঠান্ডায় খুব হাঁচি-কাশি হচ্ছে। চিন্তা নেই। এখনই ২-৩ টে খেজুর, কিছুটা মরিচ আর ১-২ টো এলাচ নিয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করে নিন। শুতে যাওয়ার আগে ওই পানি খেয়ে নিন। দেখবেন কিভাবে ঠান্ডা দৌড়ে পালাচ্ছে।
৩. অ্যাজমা সারায়:
শীতে যে যে রোগ খুব মাথাচারা দিয়ে ওঠে তার মধ্যে অন্যতম হল হাঁপানি বা অ্যাজমা। প্রতিদিন সকালে আর বিকালে নিয়ন করে ১-২ টো খেজুর খান। দেখবেন শীতকালে আর হাঁপানি হচ্ছে না আপনার।
৪. শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে:
খেজুরে যেহেতু অনেক পরিমাণে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তাই এই ফলটি খেলে নিমিষে শরীরের শক্তি বেড়ে যায়।
৫. কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়:
কেয়েকটা খেজুর নিয়ে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খেজুরটা ফাটিয়ে পানিতে মিশিয়ে পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কেমন কমতে শুরু করেছে। আসলে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে দারুন কাজে আসে।
৬. হার্টের জন্য ভালো:
হার্টকে ভালো রাখে। আর একথা তো সকলেরই জানা যে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই এই ফলটি খেলে হার্ট যেমন ভালো থাকে, তেমনি হার্টরেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কমে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা।
৭. আর্থারাইটিস কমায়:
শীতে যারা আর্থ্রারাইটিসের সমস্যায় খুব ভোগেন তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে আর্থ্রারাইটিসের ব্যথা কমাতে এটা দারুন কাজে দেয়।
৮. ডায়াবেটিস রোগীর খাবার :
ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত খেজুর খেলে ১ বা ২টি খেতে হবে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি মিষ্টির বিকল্প হতে পারে খেজুর। মূল খাবার নয়। বেশি মাত্রায় খেজুর খেলে ক্ষতিও হতে পারে।
৯. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় :
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ খেজুর।
১০. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে:
খেজুরে থাকা আয়রন ও ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রচুর পটাসিয়াম পাওয়া যায় খেজুর থেকে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ম্যাগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম এই দুটি খনিজ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকায় এই ফলটি খেলে রক্তচাপ একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন ৫-৬টা খজুর খেতে ভুলবেন না যেন!
১১. শর্করার ঘাটতি পূরণ করে :
মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অল্পতেই শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে।
১২. রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে :
খেজুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। এতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম রয়েছে। আঁশের জোগানও যথেষ্ট।
১৩. রক্তস্বল্পতায় খেজুর :
রক্তস্বল্পতার রোগীরা খেজুর খেতে পারেন। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রন প্রয়োজন, তার প্রায় ১১ ভাগ পূরণ করে খেজুর।
১৪. রেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে :
খেজুরে লিউটেন ও জিক্সাথিন থাকায় তা রেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।

এবিএস

Comments are closed.