rockland bd

ইতালিতে সেতু ধসে নিহত ৩৫

0

বিদেশ, আল জাজিরা


ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর শহর জেনোয়ায় ধসে পড়া সেতু।


ইতালির বন্দর নগরী জেনোয়ায় একটি সেতু ধসে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছে। সেতুর প্রায় ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়ার পর বহু গাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। ১৯৬০ সালে নির্মিত এ সেতুটি ২০১৬ সাল থেকে পুনর্নির্মাণের কাজ চলছিল।
ফায়ার ব্রিগেড জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।সেতু ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না বা আরও কোনো লাশ আছে কি না তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা।
সেতুটির যে অংশটুকু এখনও দাঁড়িয়ে আছে তার নিচ ও আশপাশের ভবনগুলো থেকে চারশতাধিক লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতালির বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, সেতু ভেঙে পড়ে নিচে অবস্থানরত কেউ নিহত হননি বলে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু ওপরে গাড়িতে যারা ছিলেন তারাই হতাহত হয়েছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।


দমকল কর্মীরা ধ্বংসস্তূওপের নিচে গলার আওয়াজ পেয়ে সাত জন জীবিতকে উদ্ধার করেছে বলে ইতালির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরএআই-কে জানিয়েছেন দমকল কর্মকর্তা ব্রুনো ফ্রাত্তাসি।
প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একটি টাওয়ারসহ সেতুটির ৫০ মিটার উঁচু একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় সেতুর এই অংশটিতে প্রায় ৩৫টি গাড়ি ছিল। বিশাল বিশাল কংক্রিটের স্লাব দুটি গুদাম, ট্রেন লাইন ও একটি নদী খাতের ওপর ধসে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সেতুটি ধসে পড়ার কারণে সেখানকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর এ দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন ইতালির যোগাযোগমন্ত্রী দানিলো তোনিনেল্লি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় ব্রিজের ওপর আট থেকে নয়টি গাড়ি ছিল।
ইতালির পরিবহনমন্ত্রী ড্যানিলো টনিনেল্লি এ দুর্ঘটনাকে “বড় ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।”

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া গাড়ি।


বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেতুটির ধসে পড়া অংশটিতে ৩০টি গাড়ি ও পাঁচ থেকে ১০টি ট্রাক ছিল।
প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী সেতুটির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন তারা। ৪০০ পুলিশ তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে।
জেনোয়া থেকে আসা ইতালির ডেপুটি পরিবহনমন্ত্রী এদোয়ার্দো রিক্সি বলেছেন, “জেনোয়াবাসী দিনে দুইবার সেতুটি ব্যবহার করতেন। ১৯৫০ এবং ১৯৬০-র দশকে নির্মিত অবকাঠামো নিয়ে আমরা বসবাস করতে পারবো না।”
এক টুইটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইতালির জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে সব ধরনের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাটুডে২৪/আরএইচ

Comments are closed.