rockland bd

ঢাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

0


ডেস্ক রিপোর্ট, ১৮ সেপ্টেম্বর (বাংলাটুডে) :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আশিক মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করানো হয়েছে।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকে ডাকসু নির্বাচনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি কোর্সে ভর্তি করানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
এতে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ চোখের নীচে আঘাত পেয়েছেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে, প্রক্টর তার কার্যালয়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন না।পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


আজ বেলা ১২টার দিকে ‘দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেন। এসময় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে ছাত্রলীগের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি গ্রুপ তাদের উপর হামলা চালায়। আক্রান্তরা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা করেছে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী বাসদ সমর্থিত) ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন , “ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আজ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘেরাও করে আমরা অবস্থান করছিলাম। এসময় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী এসে অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়, নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”
“আমাদের এক সহযোগী আসিফকে মেরেছে ওরা। চোখে আঘাত পাওয়ায় ওকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে”, যোগ করেন তিনি।
হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নিশ্চিত হলেন কীভাবে? প্রশ্নের জবাবে সালমান সিদ্দিকী বলেন, “তাদের অনেককেই আমরা আগে থেকেই চিনি। এদের মধ্যে বিজয় একাত্তর হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের পদধারী ছাত্রলীগ সদস্যরা ছিলেন।”
হামলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীকে জানানোর পরও তাদের দিক থেকে তেমন সাড়া পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন সালমান।
তিনি বলেন, “হামলার পরপরই আহত আসিফকে নিয়ে আমরা প্রক্টরের কার্যালয়ে যাই। কিন্তু প্রক্টর সেসময় সেখানে ছিলেন না। পরে মোবাইল ফোনে তাকে বিষয়টি জানালে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান।”
“এছাড়াও, উপাচার্য বলেন যে, তিনি এ ব্যাপারে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলবেন”, বলেন সালমান সিদ্দিকী।
তবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এ হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুইদল শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনো অনুসারী নেই।”
এবিএস

Comments are closed.