rockland bd

প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারী গাছ কর্তন

0

প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারী গাছ কর্তন


ইসমাইল হোসেন রবিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা কমপ্লেক্সের সরকারী গাছ কেটে উজাড় করে ফেলেছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরাফ উদ্দিন চৌধুরী আজাদ সোহেল। কোন রকমের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারী গাছগুলো কেটে ফেলেছেন তিনি। পরিষদের মাসিক মিটিং কিংবা কোন রেজুলেশন ছাড়াই তিনি এসব কাছ কেটে ফেলেন। পরিষদের অনুমতি অথবা কোন প্রকার নিয়ম নীতি ছাড়া সরকারী গাছ কাটাকে সম্পূর্ন্ন বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলার রামগতি উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর প্রায় ৩৫বছর আগে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে সরকারী ভাবে করই, মেহগুনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির অনেক গুলো গাছ লাগানো হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবনের ভিতরের এ গাছ গুলো গত এক সপ্তাহ যাবত চেয়ারম্যান সরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল প্রভাব খাটিয়ে লোক দিয়ে কেটে ফেলে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে। পরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহিদ হোসেনসহ কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল হক বনবিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাসেতকে ডেকে এনে গাছগুলো জব্দ করেন।

উপজেলা পরিষদের গাছ কর্তনের বিষয়ে সরকারী নিয়ম নীতি থাকলেও কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা করেননি তিনি। এ ভাবে পরিষদের অনুমতি ছাড়া সরকারী গাছ কাটাকে সম্পূর্ন্ন বেআইনি বলেছেন আইন শৃংখলা ও সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ জানান,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না তিনি। বিএনপি দলীয় হওয়ার পরও উপজেলা পরিষদে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে সোহেল। সচেতন মহল আরো জানান, তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর কারনে তিনি এসব প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাটি বেআইনি বললেও কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহিদ হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদের সরকারী গাছ কাটার বিষয়ে পরিষদের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন জানান, উপজেলা পরিষদের কোন গাছ কাটতে হলে সমন্বয় সভায় রেজুলেশন করে কাটতে হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল যে গাছ কেটেছে তা সম্পূন্ন বেআইনি। এতে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আবদুল বাসেত গাছ কাটার কথা স্বীকার করে জানান, আমাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল হক ফোন করে নিয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে কর্তনকৃত গাছ গুলো জব্দ করি। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সরাফ উদ্দি আজাদ সোহেলের বক্তব্য জানতে মুঠো ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল হক অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা বেআইনি বললেও আনুষ্ঠানিভাবে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, পরিষদের অনুমতি ব্যাতিত সরকারী গাছ কাটা অপরাধ। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আমিন/১৭সেপ্টেম্বর/২০১৯

Comments are closed.