rockland bd

কোরবানীর পশু ক্রয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া

0

রাশেদুল হাসান, ঢাকা


হাটের হাজারো মানুষের ভিড়, ঝামেলা, ঝুঁকি আরো নানা সমস্যা। সারি সারি গবাদিপশুর ঢেউ আর বর্ষার কাদাজল-গোবড় মিশে একাকার হয়ে পড়া পথ মাড়িয়ে কোরবানির পশু পছন্দ করতে হিমশিম খেতে হয় না কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নতুনভাবে গড়ে উঠা খামড়গুলোতে। পাকা মেঝে আর ঘরোয়া পরিবেশে বাছাই করা যায় পছন্দের পশুটি।  চাইলে মডেলদের মত হাটিয়েও দেখতে পারবেন। কেনা যাবে অনলাইনেও। আছে বদলের সুযোগও। এমনকি বাড়ি পৌছে দেয়ার সুবিধা।

কয়েক বছর ধরেই ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে গরুর খামারের সংখ্যা বাড়ছে।


পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য গবাদিপশু কেনার এমন আয়োজন আছে রাজধানী ঢাকার চারপাশে। আয়োজক দেড় হাজারের বেশি খামারি। তাঁদের বেশির ভাগ শুধু মাংসের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গরু লালনপালন করেন।
ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরেই ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে গরুর খামারের সংখ্যা বাড়ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এমন কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা আট-দশ বছর ধরেই পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত। এঁদের বেশির ভাগ ঢাকায় নিজস্ব খামারে গবাদিপশু লালনপালন করেন। কেউ আবার ঢাকার কাছে কিংবা অন্য কোনো জেলায় কৃষকদের কাছে চুক্তিতে পশু বড় করার জন্য দিয়ে রাখেন। আর ঈদের সময় এনে বিক্রি করেন ঢাকার খামারে রেখে।
পেশাদার খামারিরা তাঁদের পশুর বেশির ভাগ বিক্রির জন্য হাটে তোলেন না। বিজ্ঞাপন ও ফেসবুকে প্রচারণাসহ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের খামার থেকেই গরু কিনতে আকৃষ্ট করেন। ক্রেতারা একাধিকবার খামারে এসে পশু পছন্দ করতে পারেন। অনেকে অগ্রিম বুকিং করে গেছেন পছন্দের গরু। কিনে নেওয়ার পর কোনো পশু যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তা বদলের ব্যবস্থাও রেখেছেন অনেক খামারি। এসব বিবেচনায় অনেকে হাটের বদলে এসব খামার থেকে পশু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।
খামার থেকে কেনার বিষয়টি অপেক্ষাকৃত স্বস্তির। এখানে একটা নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়। যেমন, কিনে নেওয়া গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটি আবার বদলে দেওয়ার কথা বলেছেন খামারের ব্যবস্থাপক। হাটে তো এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। আর ঈদের আগে আগে খামারি নিজেই গরু বাসায় পৌঁছে দেবেন।
এসব খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু-ছাগল পালন হয়ে থাকে। পাশাপাশি সিন্ধি, শাহিওয়ালের মতো কয়েকটি জাতের গরু ভারত থেকেও আমদানি করেন। এই খামারের গরুগুলোর দাম শুরু হয়েছে ৮০ হাজার টাকা থেকে। সর্বোচ্চ ১৬ লাখ টাকা দামের গরুও আছে তাঁদের।

কাদা, গোবড় পাড়াবেন না কি খামারে যাবেন, সিদ্ধান্ত আপনার। একটি কোরবানীর পশুর হাট।


কাশ্মীর থেকে তিনটি সাদা মহিষ ,উট, ভুটান থেকে আমদানি করা ছোটখাটো গড়নের ‘ভুট্টি’ গরু, ব্ল্যাক বেঙ্গল, যমুনাপাড়ি, বিটলসহ কয়েক প্রজাতির ছাগল এসব খামারে পাওয়া যায়।
সাদিক অ্যাগ্রোর কাছাকাছি আল-আইমান অ্যাগ্রো নামের আরেকটি খামারে কথা হলো
ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা এ রকম খামারের বিষয়ে জানা গেছে, পশুপালনের জন্য এমন খামার পরিচালনা করতে পারলে তা খুব দ্রুত লাভজনক হয়ে ওঠে। আর আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়ার জন্য কোরবানির ঈদ একটা বড় উপলক্ষ।
অন্যদিকে ঢাকার বাইরে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গবাদি পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন জেলার খামারিরা। এবার জেলা-উপজেলায় দেশিয় খাবার খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে কোরবানির পশু। আর এসব খামারের অধিকাংশ গরুই দেশি প্রজাতির। গরুর পাশাপাশি ছাগলও পালন করছেন অনেকে। এ বছর কোরবানি উপলক্ষে ছাগলও পালন করা হচ্ছে। খামারিরা জানান, ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে তারা।
তারা জানান, গরুতে কোন ইনজেকশন দেয়া হয়নি। কোন অস্বাভাবিক খাদ্যও খাওয়ানো হয় না।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খাদ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় পশু হৃষ্টপুষ্ট করায় খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। এ অবস্থায় ঈদের আগে দেশে ভারতীয় গরু আসলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা করছেন তারা।
এক খামারী বলেন, যদি ভারতীয় গরু বাজারে ঢোকে তাহলে আমরা মাঠে মারা যাবো। যদি ভারতীয় গরু না ঢোকে তাহলে আমরা বেশ ভালো ব্যবসা করতে পারবো বলে আশা করি।
আর হৃষ্টপুষ্ট করতে গিয়ে কেউ যাতে স্টেরয়েড হরমোন কিংবা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোন খাবার পশুকে না খাওয়ায় সে ব্যাপারে খামারিদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ‘নিয়মিত এই খামারগুলি মোনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোন ধরণের নিষিদ্ধ ওষুধ বা ক্যামিকেল ব্যবহার হচ্ছে না।’

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.