rockland bd

মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর প্রতিবাদে বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

0

মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর প্রতিবাদে বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন


সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : সুকৌশলে জমি দখলের চেষ্টা, বার বার মিথ্যা মামলা দায়ের ও সংবাদ সম্মেলনে করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন। গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানীমূলক দাবি করে লিখিত বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জিন্নাত আরা রোকেয়া চৌধুরী ও আব্দুল হামিদ তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন। জিন্নাত আরা গং ১৯৯৭ সালে এসএ ২৩৪ নং খতিয়ানে ৬৭ নং দাগে ৬৬ শতক জমি ক্র করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে অদ্যাবধি দখলে রয়েছেন। শুধুমাত্র দলিলের ৬৭ ও ৬৫ দাগ উল্লেখ করে দাতাগণ ৬৭ দাগে দখল বুঝিয়ে দেয়ার পরও তিনি নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ৬৫ দাগের অর্ধেক জমি দাবি করেন। পরবর্তিতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার সরজামিন তদন্তকালে জিন্নাত আরার ৬৭ দাগে ৬৬ শতক জমির দখল সুস্পষ্ট হয়। এতে জিন্নাত আরার ৬৫ দাগের অভিযোগটি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রতিয়মান হয়।

অপরদিকে তেঁতুলিয়ার দেবনগর এলাকার বালুবাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হামিদ বাংলাবান্ধায় পাথর ব্যবসা করার জন্য গত এক বছর আগে ঝাড়–য়া পাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুস সাত্তারের নিকট হতে ৮৮ দাগের ৪০ শতক জমি ভাড়া নেন। ওই জমির প্রকৃত মালিক বগুড়ার ময়নুল হক সুলতান গং। তারা ১৯৯৭ সালে আব্দুস সাত্তার ও তসির উদ্দীনের নিকট হতে ৩১৮ নং দলিল মূলে মালিক হন। জমির দাতাগণ দলিলের সম্পত্তি চিহ্নিত করে যার পশ্চিমে পাকা রাস্তা উত্তর দক্ষিণে জমির মূখ ১১৭ ফুট উল্লেখ করে জমির দখল বুঝিয়ে দেন। জমির দখল বুঝে দেয়ার পর জমির মালিক ময়নুল হক সুলতান গং ওই জমি রক্ষনাবেক্ষণ করার জন্য জমির দাতা আব্দুস সাত্তারকে দায়িত্ব দিলে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। ওই জমি ভাড়া নেয়ার পর আব্দুল হামিদ আব্দুস সাত্তারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে আবারও ৪০ শতক জমি সাব রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে ওই জমিতে ঘর উত্তোলণ করেন। তিনি আব্দুস সাত্তারকে বোঝান জমির মূল মালিকরা বগুড়ায় থাকেন। তারা কোনদিন জমি দখল নিতে পারবে না।
পরবর্তিতে জমির মূল মালিক ময়নুল হক গং বিষয় জানতে পেরে আমার কাছে দলিলপত্র নিয়ে হাজির হন। এ নিয়ে আব্দুল হামিদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান এবং ওই জমি ক্রয়ের প্রস্তাব দিলে ময়নুল হক সুলতান গং তা প্রত্যাখান করেন। পরবর্তিতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জমির মূল মালিক

ময়নুল হক সুলতান গং ওই জমি সাইদুল ইসলাম, আজিজার রহমান ও তহিদুল হকের কাছে বিক্রয়ের জন্য বায়নামা রেজিষ্ট্রি করে দেন। এর পর থেকেই আব্দুল হামিদ একের পর এক মিথ্যা মামলা ও সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে আসছে। আব্দুল হামিদ আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর জ্বালা মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে। শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়; অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাথর বাকি নিয়ে আব্দুল হামিদ ওই বাকি টাকা না দেয়ার ষড়যন্ত্রে ওই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করে। এখানেই শেষ নয়; প্রতারক আব্দুল হামিদ প্রকাশ্যে মানুষের সামনে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে যে, তার কাছ থেকে জমি নেয়া হলে তার গর্ভবতি স্ত্রী ও গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে আমার ও পাওনাদার পাথর ব্যবসায়ীদের নামে হত্যা মামলা আনয়ন করবে। বার বার মিথ্যা মামলা, সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা অভিযোগ আনার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আমিন/০৯সেপ্টেম্বর/২০১৯

Comments are closed.