rockland bd

এডিস মশার লার্ভা নিধনে রাবি অধ্যাপকের নতুন আবিষ্কার

0

এডিস মশার লার্ভা নিধনে রাবি অধ্যাপকের নতুন আবিষ্কার


রিজভী আহমেদ, রাবি প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : তেলাপিয়া মাছকে পানির মধ্যে খাঁচায় আটকে রেখে মশার লার্ভা ধ্বংস করার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এই নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন রক্ষা পাবে আবার ক্ষতিকর এডিস মশার লার্ভা খেয়ে ধ্বংস করবে মাছ। তেমনি একটি ফাঁদ তৈরী করেছেন তিনি।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তেলাপিয়া মাছকে খাঁচায় বন্দী রেখে ড্রেনের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়, যাতে তেলাপিয়া মাছকে কোন সাপ, ব্যাঙে না খেয়ে ফেলতে পারে। মাছকে কম খাবার দিতে হয় যাতে মাছ ক্ষুধার্ত অবস্থায় মশার লার্ভা খেয়ে ফেলতে পারে, প্রয়োজন অনুযায়ী এই ফাঁদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সারানো যাবে।

তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে যুগে যুগে ভয়াবহ রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের ঘটনা পৃথিবীতে একাধিকবার ঘটেছে। বাংলাদেশে ইদানিং যে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজমান, আমার মতে এ দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বা এর হুমকির মুখে পরাটাই তার অন্যতম কারণ। কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে শহরের ড্রেন, ডোবা যখন পানিতে ভোরে যেত, তখন সেই পানির ভিতরে ছোটবড় অনেক ধরণের মাছের বিচরণ ছিল লক্ষণীয়। মশার ডিম ফুটে বেরোনো লার্ভা হচ্ছে ছোট-ছোট মাছের অত্যন্ত প্রিয় একটি মজাদার খাবার।

গবেষক আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, “আমার পর্যবেক্ষণ মতে, নাইলোটিকা জাতীয় মাছ তো মশার লার্ভা পেলে অন্য খাবারের ধারে -কাছেই যেতে চায় না। অন্যদিকে শহরের ড্রেন, ডোবা, কনস্ট্রাকশন সাইটের ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা হচ্ছে সকল প্রকার মশার জন্য নিরাপদ এবং উন্নতমানের প্রসব কক্ষের মতো। যেহেতু বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে ছুটে চলেছে , কাজেই চৌবাচ্চায় ইট ভেজানোর কাজ বন্ধ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা।
কীটনাশক দিয়ে চৌবাচ্চার পানি, ড্র্রেনের পানি থেকে মশার ডিমকে ধ্বংস করা যায়, তবে কীটনাশক অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে ড্রেন, ডোবার মাঝে বেঁচে থাকা পরিবেশ বান্ধব অন্যান্য কীটপতঙ্গ ও ছোটমাছও একই সাথে মারা যাবার সম্ভবনা আছে যা প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে অধিকতর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রকৃতি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠলে আমরা আবার নুতন ধরণের কোনো মহামারী রোগে আক্রান্ত হতে পারি। বুদ্ধিমানের কাজ হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ঠিক রেখে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোনিবেশ করা।

তিনি আরো বলেন, আমার পর্যবেক্ষণমতে, যেহেতু নাইলোটিকা জাতীয় মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার খুব চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং এই জাতীয় মাছকে এডিস মশা সহ সকল জাতীয় মশার লার্ভা নিধনে শিকারী মাছ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্প্রতি বিশ^বিদ্যায়ে একটা প্রকল্পে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছি। গবেষণায় দেখা গেছে, ড্রেনের মধ্যে থাকা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলছে নাইলোটিকা জাতীয় মাছ। এভাবেই খাঁচায় আটকে রেখে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন,লার্ভা শিকারের জন্য নাইলোটিকা মাছকে খাঁচার ভিতরে আটকে রাখার বেনিফিটস একাধিক। প্রথমত অন্যান্য রাক্ষস জাতীয় মাছের হাত থেকে শিকারী নাইলোটিকা মাছকে রক্ষা করা; দ্বিতীয়ত, লার্ভা শিকারে অধিকতর দক্ষ হয়ে উঠা এই নাইলোটিকা মাছকে প্রয়োজনে এক ড্রেন থেকে অন্য ড্রেনে স্থানান্তর করে সীমিত সময়ে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।

তিনি মনে করেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখন ইমারত নির্মাণের কাজ চলছে। ইট ভিজানোর জন্য যে চৌবাচ্চা করা হয়, সেগুলো হতে পারে এডিস মশা বংশ বিস্তারের অন্যতম জায়গা। তবে, এর সমাধান আছে। আমি দেখেছি নাইলোটিকা বা এরকমের কোন মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার খুব চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং এসব চৌবাচ্চা মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে লাঘব হবে। আর এডিস মশা যে শুধুমাত্র পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এ ধারনাও সত্য নয়। ড্রেনের বা খালের আবদ্ধ নোংরা পানিতেও এ মশা জন্মাতে সক্ষম। তাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বাড়ির আশেপাশের নোংরা পানিও মশামুক্ত রাখতে হবে।

এদিকে, বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের পরামর্শে এবং উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সহায়তায় শুক্রবার সকাল ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনের ড্রেনে এ্যান- ওয়্যার লার্ভাসিডাল ট্রেপ নামক নতুন পদ্ধতির লার্ভা নিধন ফাঁদ স্থাপন করা হয়।

এই পদ্ধতি ব্যবহার সম্পর্কে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোঃ জাকারিয়া বলেন, দেশের শহরগুলোতে দিন দিন যে হারে ড্রেনে ময়লা আর্বজনা ফেলা হচ্ছে তাতে এডিস মশার লার্ভা বেড়েই চলেছে। এই নতুন পদ্ধতি শহরের ড্রেনে ব্যবহারের ফলে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি কমিয়ে আনা সম্ভব। এই সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, রবিউল ইসলাম রবি, শাহ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ ড.আরিফুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আমিন/০৭সেপ্টেম্বর/২০১৯

Comments are closed.