rockland bd

চিলাহাটি রেলষ্টেশনে কালো বাজারে টিকিট বাণিজ্য

0

জুয়েল বসুনীয়া, চিলাহাটি (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ঈদকে পুঁজি করে এখনো ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলষ্টেশনে ঢাকাগামী নীলসাগর ট্রেনের কালো বাজারে টিকিটের বাণিজ্য চলছে। বুকিং অফিস, রেলের কর্মচারী, আশপাশের চা ও পানের দোকানসহ কিছু সংখ্যক মহল এ টিকিট বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ঢাকাগামী অসহায় ট্রেন যাত্রীরা একটি টিকিট দ্বিগুণ দামে কালোবাজারীদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। ঈদে উপলক্ষে এক্সট্রা টিকিট বরাদ্দ থাকলেও যাত্রীদের ভাগ্যে তা মিলেনী।
স্থানীয় একাধীক সূত্র জানান, এবার ঈদ উপলক্ষে চিলাহাটি রেলষ্টেশনে আগাম টিকিট ছাড়ার সময় থেকে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। শুরু থেকে একই ব্যাক্তিকে প্রতিদিন টিকিট দেওয়ায় বৈধ্য যাত্রীদের ভাগ্যে কাউন্টার থেকে টিকিট মেলেনী। নিরুপায় হয়ে ঢাকাগামী যাত্রীরা চোরাকারবারীদের কাছ থেকে দ্বি-গুণ দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে টিকিট। ঈদের ইমেস শেষ হলেও এখন চিলাহাটি ষ্টেশনে কালো বাজারে টিকিট বাণিজ্য চলছে। দিনের বেলা যাত্রীরা কাউন্টারে ধর্না দিলেও মেলেনা ট্রেনের টিকিট। অথচ কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে চোরাচালানীরা চড়া দামে টিকিট বিক্রি করছে। অনেক সময় চোরাচালানীরা যাত্রীদের কাছে বাড়তি টাকা নিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট এনে দেয়। এতে চোরাচালানীদের সাথে চিলাহাটির বুকিং সহকারীরাও জড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ট্রেন ছাড়ার সময় পর্যন্ত ষ্টেশনে ঘুরে ঘুরে যাত্রীদের কাছে চড়া দামে টিকিট বিক্রি করলেও দেখার বা বলার কেউ নাই। সূত্রটি আরো জানান, হাতে গোনা কয়েকটি ছেলে সকাল দুপুর বিকাল সন্ধ্যা সব সময় রেলষ্টেশনে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে অনেকে এ টিকিট বানিজ্যর সাথে জড়িত। ষ্টেশন সংলগ্ন ২/১ টি দোকানদার প্রকাশ্য চড়া দামে টিকিট বিক্রি করে আসছে।স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, চিলাহাটি রেলষ্টেশনে টিকিট নিয়স্ত্রন করে আসছে কালোবাজারীরা। যে কোন সময় বুকিং অফিসে গেলে বলে টিকিট শেষ। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য টিকিটের কোন কোঠা নেই। অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম বলেন, ঈদ থেকে দেখে আসছি চিলাহাটি রেলষ্টেশনে টিকিট সব সময় কালোবাজারীদের দ্বারা বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে অনেকেই কাউন্টারের আশায় থাকেনা। তাছাড়া বেশী ভাগ সময় টিকিট কাউন্টার বন্ধ রাখা হয় কালোবাজারীর টিকিট বিক্রির জন্য। স্থানীয় খোকা বলেন, চিলাহাটি রেলষ্টেশনে নামেই টিকিট কাউন্টার আছে। টিকিট সব সময় বিক্রি হয় কালোবাজারীদের দ্বারা। ফলে সাধারন ট্রেন যাত্রীরা কালোবাজারীদের হাতে পরে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে। বুকিং সহকারী আবু কাওছার ও নাছির উদ্দিন সাগর বলেন, আমরা অনেকটা সচ্ছতা নিয়ে এসেছি। আমাদের বিরুদ্ধে লিখে কোন লাভ হবে না। কারন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। ষ্টেশন মাষ্টার মোমিন উদ্দীন প্রামানিক বলেন, টিকিট সংক্রান্ত সব কিছু বুকিং অফিস বলতে পারবে। অনিয়ম ব্যাপারে কোন লেখিত অভিযোগ পেলে তা আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
রাকিব/বাংলাটুডে

Comments are closed.