rockland bd

আগামীকাল থেকে প্রত্যাবসন! নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা নিয়ে ফিরতে আগ্রহী নয় রোহিঙ্গারা

0


ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ২১ আগস্ট (বাংলাটুডে) :
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসন শুরু হওয়ার কথা আগামীকাল ২২ শে আগস্ট। এ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে মিয়ানমার সরকারকে। মিয়ানমার তা যাচাই করে দেখেছে। মিয়ারমারের একটি স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী দল গতকাল ও আজ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথাও বলেছে।
এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা ত্রান ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম রেডিও তেহরানকে বলেছেন, তাদের দিক থেকে সবরকম প্রস্তুতি প্রহণ করা হয়েছে। এখন যাদের জন্য এ প্রচেষ্টা সেই রোহিঙ্গাদেরকই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাল তারা যাবে কী না।
এরই মধ্যে একদল রোহিঙ্গা তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ করেছে। এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জমির উদ্দীন রেডিও তেহরানকে জানান, আগামীকাল নির্ধারিত প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হবার সম্ভামনা কম। কারণ রোহিঙ্গারা তাদের নাগিকত্ব, নিরাপত্তা, সহায়-সম্পত্তি ফেরত পাওয়া এবং নিজ দেশে চলাচলের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে না।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষও বলেছে, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি আছে সেটা তারা নিশ্চিত হতে চাইছে ।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের এ প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা স্থগিত করা উচিত ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ২২ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের কাছে। তার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমার ৩৪৫৪ জনকে যাচাই-বাছাই করেছে। এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, মিয়ানমার এখনও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিপীড়ন ও সহিংসতার সমাধান করতে পারেনি। তাই দেশে ফিরে গেলে প্রতিটি বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে তাদের।
জাতিসংঘ এ প্রক্রিয়ায় আলোচনা শুরু করার পর অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চান। কিন্তু বর্তমানে সেখানে যে অবস্থা তাতে ফিরে যাওয়াটা তাদের জন্য নিরাপদ নয়। প্রাথমিক তালিকায় যেসব শরণার্থীর নাম আছে তাদের অনেকে সমঝোতামুলক আলোচনায় উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার কথা ঘোষিত হওয়ার পর মিয়ানমারে নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন শরণার্থীরা।-পার্সটুডে
এবিএস

Comments are closed.