rockland bd

জামালপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন; দুর্যোগ মোকাবেলার কর্মীরা যেখানে নিজেরাই দুর্যোগে

0

মিঠু আহমেদ, জামালপুর


জামালপুর শহরের একমাত্র কেন্দ্রীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রশাসনিক ভবন, গাড়ির গ্যারেজ, স্টোর ও দুর্যোগ কর্মীদের বসবাসের ব্যারাক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে তিন বছর আগে। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।  তিন বছরেও ভবন নির্মাণ বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেকটাই অসহায় দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

ব্যারাকের ছাদ ও ভিমের পলস্তরা খসে পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রশাসনিক ভবন, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, স্টোর কক্ষ ও ব্যারাকের ছাদ ও ভিমের পলস্তরা খসে পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ওইসব ভবনের প্রত্যেক কক্ষের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ও পলেস্তারা খসে পড়ে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। দরজা-জানালাও ভেঙ্গে গেছে। এ অবস্থার মধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা যায়, স্টেশনটি ১৯৬২ সালে নির্মিত হয়। ১৯৬৪ সালে এটি প্রথম শ্রেণির মর্যদা পায়। স্টেশনটির প্রশাসনিক ভবন, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, স্টোর কক্ষ ও ব্যারাকের ভবন ২০১৪ সালে জামালপুরের গণপূর্ত অধিদপ্তর পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
স্থানীয়রা জানান, যারা দুর্যোগ আর দুর্ঘটনায় সেবার হাত নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে তাঁরাই আছেন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে। ভূমিকম্প বা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে যারা দুর্যোগ মোকাবেলায় থাকবে তাঁরাই এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যারা মানুষের বিপদে দুর্যোগ আর দুর্ঘটনায় ছুঁটে যেতে সদা প্রস্তুত থাকেন তাঁদেরই এখন প্রতি মূর্হুতে থাকতে হচ্ছে দুর্ঘটনার আতঙ্কে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলেন,‘দুর্যোগের মধ্যে সাধারণ মানুষকে উদ্ধারের দায়িত্ব আমাদের ওপর। কিন্তু প্রতি মূহুর্তে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েও ব্যারাকে বসবাস করছি। প্রায় সময়ই ভবনের ভিতরের বিছানার ওপর ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে।
গত এক বছরে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে কয়েক জনের ওপরে পড়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ব্যারাকে বসবাস কারী ২৬ জন দমকল কর্মী সবসময় ভীতির মধ্যে বসবাস করছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোহাম্মদ আলী বলেন,‘সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ওপর। কিন্তু আমাদেরই এখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ভবন দুটির এমন অবস্থা ছোট ধরণের কোন দুর্যোগের ঘটনা ঘটলেই আমরাই আগে দুর্ঘটনার শিকার হবো।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ড্রাইভার মো.শরিফ মিয়া বলেন,‘প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন একটি ভবনের নিচে অগ্নি-নির্বাপণের গাড়িগুলো রাখা থাকে। ভবনের ছাদের যে অবস্থা যেকোনো মূহুর্তে ছাদ ভেঙে গাড়িগুলোর ওপর পড়তে পারে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো.নূর উদ্দিন বলেন,‘ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সকল ভবনই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সকল কার্যাক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঝুঁকির মধ্যে। পরিত্যক্তের বিষয়টি গত তিন বছর ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। তাঁরা শুধু ভবন ছেড়ে দিতে বলেছেন।
কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমাদের সকল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের কোয়াটারে আমি নিজে থাকি ঝুঁকি নিয়ে। ছাদের পলেস্তারা ভেঙে ভেঙে পড়ছে।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.