rockland bd

জামালপুরে বানভাসীদের নেই ঈদ আনন্দ

0

শুধু বৃদ্ধা মমিরন(৬৫), ছমিছে বেওয়া (৬৬), রাবিয়া বেওয়াসহ জেলায় এরকম কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে যাদের ঈদ আনন্দ বলতে কিছু নেই।


মিঠু আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে বানভাসী পরিবাররা। বয়সের বাওে নুজবৃদ্ধা মমিরন (৬৫) তার বাড়িতে ফিরে দেখেন তার পলিথিনের কাগজ ও সোলা দিয়ে নির্মাণ করা ছোট কুড়ে ঘরটিও বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে থাকলেও মেয়েটি প্রতিবন্ধি। স্বামী সুরুজ আলী (৭৫) অসুস্থ্য হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন দীর্ঘদিন যাবত। কয়েক বছর আগে বন্যায় তার বাড়িঘরসহ সমস্ত সম্পত্তি সর্বানাশী যমুনায় গ্রাস করে নিয়েছে।
ইসলামপুর চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তারা ১০টি পরিবার বছরে ১০ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ঘর তুলার যায়গাটুকু পেয়েছেন। তার একবেলা খাবার জুটাতেই পারে না সে কিভাবে তার থাকার ঘরটি মেরামত করবে। সে আবেগ জড়িত কন্ঠে বলে বাপু আমাগো মথন গরিবের আবার ঈদ আনন্দ। তিন ওয়াক্ততো খাইতেই পারিনা! ফলে তার পরিবারে এবার ঈদের আনন্দ নেই। শুধু বৃদ্ধা মমিরন(৬৫), ছমিছে বেওয়া (৬৬), রাবিয়া বেওয়াসহ জেলায় এরকম কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে যাদের ঈদ আনন্দ বলতে কিছু নেই।
ঈদে ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন কাপড় কিনতেন, কোরবানীও করতেন। কিন্তু এবারের ভয়াবহ বন্যায় ধুলিসাৎ করে দিয়েছে তাদের সকল স্বপ্ন সাধ। এদের মধ্যে অনেক পরিবারের কর্তা ব্যাক্তিটি এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেননা ঈদের দিন প্রিয় সন্তানদের মুখে কি দিতে পারবেন।
এবারের ভয়াবহ বন্যায় পুরো জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অবস্থা ভয়াবহ। দুর্গত এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল রাস্তা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সেতু বা হার্ডপয়েন্টের উপর, রেল লাইনের পাশে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ বাড়ি ঘরে ফিরে গেলেও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত থাকায় ও নিম্নাঞ্চলের পানি না নামায় অনেকেই ফিরতে পারেনি। এসব মানুষের এখন চরম দুঃসময় চলছে। দুর্গত এলাকার এসব মানুষের দুর্ভোগ শেষ না হতেই এবার ঈদ চলে আসায় তাদের মধ্যে ঈদের প্রস্তুতি নেই। ফলে প্রতি বছর যারা আনন্দে উল্লাসে ঈদ উৎযাপন করতেন। করতেন কোরবানীও । তারাই এবার অন্যের মুখাপেক্ষী।
সরেজমিনে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি, উলিয়া, গুঠাইল ও কুলকান্দি, পশ্চিম বলিয়াদহ, পূর্ব বামনা, দেলিরপাড় রাস্তা ও বাঁধের উপর ও বিধ্বত বাড়ি-ঘরে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য বানভাসি মানুষ অসহায় অবস্থায় রয়েছে। আবার কেউ কেউ বাড়ি ফিরে যাবার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় কথা হয় চিনা ডুলি ইউনিয়নের বৃদ্ধা মমিরন(৬৫), ছমিছে বেওয়া (৬৬), রাবিয়া বেওয়ার সাথে, ‘বান আসার পর থেকি গেদা-গেদি লইয়া কত মছিব্বতে আছি। ঈদক মধ্যে গেদা গেদির মুখত কি দিব আল্লাই জানে।
কুলকান্দি বাঁধে আশ্রিত রমজান আলী ও কোব্বাত মিয়াসহ অনেকের আক্ষেপ, এত বড় বন্যা কেউ খোঁজ লয়লো না। পোলাপান লইয়া অনাহারে-অর্ধাহারে কত কষ্ট করতাছি। ঈদের আগে আর কুঠাই কাম যামু। , চেয়ারম্যান-মেম্বররা কয় আমরা না পাইলে তুঙ্গরে দিমু কুঠাই থাইকা। এই কষ্টের মধ্যে আঙ্গর আবার ঈদ। তাদের মতো একই অভিযোগ সেখানে আশ্রয় নেওয়া আয়শা বেগম, গোলাপী বেগম, রোজিনা আক্তারসহ অনেকের।
নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বানভাসি আঃ রহিম মন্ডল ও জামাল শেখ বলেন, প্রতি বছর নিজেরাই কোরবানী দিতাম। যমুনার ভাঙ্গণ আর বন্যায় এ বছর সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। এবারকার ঈদে পরিবারের কারও জন্য কিছু কেনা কাটাতো দূরের কথা মাংসের জন্য অন্য মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার এলাকায় ঈদের সময় কেউ অনাহারে বা অর্ধাহারে থাকবে না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চাউল সবার ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমি নিজে গিয়ে সবার খোঁজ খবর নিবো।

আমিন/০৭আগস্ট/২০১৯

Comments are closed.